পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সকাল বেলায় ফুটবল খেলা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। স্থানীয়রা দলবদ্ধভাবে সকালে ফুটবল খেলে সময় কাটান এবং শরীরচর্চা করেন। এটি তাদের মধ্যে একটি সাধারণ বিনোদন এবং খেলাধুলার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভাঙ্গুড়ায় এই খেলা চলে আসছে প্রায় দেড় যুগ সময় ধরে।বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের ঘাসে মোড়া সবুজ মাঠে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের অর্ধ শতাধিক মানুষ মেতে উঠেছে ফুটবল খেলায়। এভাবেই প্রতিদিন সকালে এ মাঠে সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।জানা গেছে, ২০০৭ সালের জুন মাসে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার শাহেব পাড়ার মো. শামছুল আলম, চৌবাড়ীয়া মাষ্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্রাজিল ভক্ত শেখ সাখাওয়াত হোসেন, মো. সেলিম রেজা সরকার, ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদুল হাসান কলি, পাবনার সাবেক স্বনামধন্য গোলরক্ষক রাশিদুল ইসলাম মাষ্টার, মাসুদ করিম মাসুম, আমিনুল ইসলাম রাসেল, শেখ সাইফুল আজম শাহীন, মামুনুর রশিদ মিঠু, কলেজ পাড়া এলাকার জীবন হোসেন বকুল, মিজানুর রহমান মিজানসহ বেশ কয়েকজনের উদ্যোগে সকালবেলার এই ফুটবল খেলা শুরু হয়েছিল।স্থানীয় ক্রীড়াপ্রমীরা জানান, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। আজকের তরুণরাই সমাজের শক্তি। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মানসিকতা তৈরি হয়, যা মাদক ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সহায়ক।ভাঙ্গুড়া পৌরসভার হাফিজ আল-আফ্রিদী, মেহেদী হাসান, মাহিমসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তরুণদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এলাকার বড় ভাইয়েরা দীর্ঘদিন যাবৎ সকালে ফুটবল খেলা চালু রেখেছেন। তাদের মধ্যে সম্প্রীতির এই চর্চা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগানিয়া।ভাঙ্গুড়ায় সকালের ফুটবল খেলার অন্যতম উদ্যোক্তা মো. সেলিম রেজা সরকার বলেন, সমাজকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সবাইকে খেলাধুলায় আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিবি স্কুল এন্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিশ্বের প্রাচীনতম খেলাগুলোর একটি ফুটবল। খেলাধুলাই একমাত্র সুস্থ শরীর গঠন, সঠিক ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও মানসিক বিকাশে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মনকে উৎফুল্ল করার ফলে বৃদ্ধি পায় শিক্ষার হারও। তাই সুস্থভাবে জীবন-যাপন করতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা চালিয়ে যেতে হবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
