চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গাছ ও বালু বোঝাই গাড়ি থেকে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে যুবদলের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর থেকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালের ভর্তি করানো হয়েছে। বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়। পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আহতরা হলো সাদ্দাম হোসেন পিন্টু, মো. আনোয়ার, ধলা মিয়া, মোহাম্মদ রাসেল, মো. ফারুক সহ ৮ জন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক হয়ে পূর্বদিক থেকে আসা কাঠ বোঝায় ট্রাক থেকে ১ হাজার ও বালু বোঝায় ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলমগীর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ কালার নেতৃত্বে টাকাগুলো তোলা হতো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর আলমগীর ও মাসুদ কালাকে সরিয়ে সেখানে নুর উদ্দিন সহ কয়েকজনকে টাকা তোলার দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকে দুগ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছে। মঙ্গলবার টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা ফারুকের উপর হামলা করে আলমগীরের লোকজন। ফারুকের উপর হামলার খবর পেয়ে তার পক্ষের লোকজন ছুটে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরেস্ট অফিস এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ট্রাক, বালুর গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়, মাদক নিয়ন্ত্রন সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডকে ঘিরে বিএনপি দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ চলে আসছিল। দ্বন্ধের জেরে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বনবিভাগের এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ফরেস্ট অফিস এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
