নীলফামারীতে মসজিদ ভাঙা ও চুরির মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগকারীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে দক্ষিণ বিশমুড়ী পাইলাঙা এলাকায় ২০১৯ সালে স্থানীয় মুসলিম জনসাধারণের অর্থায়নে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদের নামে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর দাতা আইয়ুব আলী কর্তৃক ওয়াকফনামা দলিল মূলে বি,এস ৩২২৬ নং দাগে ৪ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রিকৃত থাকলেও মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের অধিক গ্রহনকৃত জমিতে, যা ধর্মীয় বিধি-বিধান ও আইনগতভাবে বৈধ ছিল না। ওই মসজিদটি নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত জমিটি মসজিদ কমিটির দখলে নেই। ফলে সর্বসম্মতিক্রমে নতুনভাবে সংগৃহীত বি,এস ৩২১৪ নং দাগে ৯ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বর্তমানে নির্মাণ কাজ চলছে।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মসজিদ ভাঙা ও চুরির মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য ফেসবুকে ও এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটির উন্নয়নমূলক কাজ ও জায়গা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত ধর্মীয় বিধান মেনেই কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, এই অপপ্রচার এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট এবং সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টির একটি জঘন্য অপচেষ্টা।মুসল্লিরা জানান, কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি স্থানীয় কিছু ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। আজকের মানববন্ধনে তারা ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মিথ্যা অপপ্রচারকারী ও তাদের মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে মসজিদের শত শত মুসল্লি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী পোস্টার ও ব্যানার হাতে তাদের দাবি তুলে ধরেন।এসময় প্রশাসনের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, যার মধ্যে রয়েছে অপপ্রচারকারীদের বিচার, ফেসবুক থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য অপসারণ এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। এছাড়া প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে একটি সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করা।মানববন্ধন শেষে মুসল্লিদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক বরাবর তাদের দাবির স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই ঘটনা পুরো এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মুসল্লিরা আশা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং দোষীরা শাস্তির মুখোমুখি হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
