টাঙ্গাইল জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সীমিতসংখ্যক পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শত শত মোটরসাইকেলচালককে।সোমবার (৩০ মার্চ) জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় অধিকাংশ পাম্পে তেলের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ লিখে নোটিশ টানানো হয়েছে। ফলে পরিবহন শ্রমিক, মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র পাম্পের বাইরে বোতল ও জারে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে তেল কিনছেন।ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম, কামাল হোসেন ও শহীদুল মিয়াসহ অনেকে জানান, জেলার হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ পাম্পে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ওষুধ কোম্পানির বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল পাম্পগুলোতে ভিড় বাড়িয়ে দিচ্ছে।অন্যদিকে মিনিট্রাক চালক আব্দুল কাদের জানান, জরুরি মালামাল নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তিনি দুই হাজার টাকার তেল চাইলেও তাকে এক হাজার টাকার বেশি দেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে তেল কিনতে হয়েছে। তার অভিযোগ, এ সংকটের পেছনে পাম্প সংশ্লিষ্টদের কারসাজি থাকতে পারে।এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
