দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার শুশুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাকি বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় চত্বরে থাকা গাছ ও গাছের ডালপালা কেটে গোপনে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের অজুহাতে সম্প্রতি স্কুল প্রাঙ্গণের কয়েকটি গাছের ডালপালা কাটা হয়। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব গাছ বা ডালপালা সংরক্ষণ বা নিলামের মাধ্যমে বিক্রির কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। বরং প্রধান শিক্ষক লাকি বেগম কোনো অনুমোদন বা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের গাছের ডালপালা কেটে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার বা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেংনার মোড় এলাকার একটি হোটেলে ওই গাছ ও ডালপালার কিছু অংশ এখনও রাখা আছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেছেন, গাছ কাটার সময় তারা বাধা দিলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। সরকার দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে জিয়াউর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে তিনি ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আত্মসাৎকৃত সরকারি সম্পদ বিক্রির অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক লাকি বেগম তিনি বলেন, গাছ বিক্রি করা হয়নি। কয়েক বছর আগে কাটা ডালপালা আমি নিজের খরচে রুমে সংরক্ষণ করেছি। বিষয়টি আমার সহকর্মীরাও দেখেছেন। রুমের ভিতরে গাছ রাখার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। হঠাৎ করে কেউ বিষয়টিকে বিক্রির সঙ্গে জড়াচ্ছে, যা আমার জন্য অপমানজনক। আমি সরকারি দলের লোক হওয়ায় হয়তো বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। সাংবাদিকরা স্কুলের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরে না, বরং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনজুরুল হক মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো পিকনিক বা অনুষ্ঠান হলে গাছের ডালপালা রান্নার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আমরা কখনোই বিক্রির নির্দেশ দেইনি। বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি। সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান সরকার জানান,অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিদ্যালয় শুধু শিক্ষার স্থান নয়, বরং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের কেন্দ্র। সেখানে যদি অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তবে তা শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানাচ্ছেন।বর্তমানে দেখার বিষয়, প্রশাসনের তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
