বিভিন্ন ফসলের সাথেই উচ্ছমূল্যের অধিক লাভের ফলচাষ বাড়ছে যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে। পুষ্টিতে ভরা রসালো ফল বরই চাষে স্বাবলম্বি হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বাড়ছে কর্মসংস্থান ও চাষ। সৃষ্টি হচ্ছে উদ্যোক্তা। লাভের মুখ দেখছেন চাষীরা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবন করা আপেল কুল, বাউকুল, থাইকুল ও ঢাকা-৯০ কুলসহ কয়েকটি জাতের বরই চাষ করেন তারা। মাত্র চার থেকে ৬ মাসেই কোটি টাকার বরই ফলনে জীবন বদলের স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা। আধুনিক মানের বরই চাষে নতুন ওষুধ উৎপাদনসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন উদ্যোক্তাসহ স্থানীয় চাষীরা।যশোরের শার্শা উপজেলার জামতলার মাহবুবুর রহমান। মাষ্টার্স শেষে ভূগছিলেন হতাশায়। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থেকে ৫ বছর আগে পাঁচ বিঘা জমিতে শুরু করেন থাই, বল, আপেল ও নাসরিন নামের উন্নত জাতের বরই চাষ। আট মাসের মধ্যেই হয় ফলন। দশ বছর ধরে ফলন হয় এসব গাছে। বিঘায় দুই লাখ টাকা খরচে পাওয়া যায় পাঁচ লাখ টাকা। অল্প সময়ে স্বল্প খরচেই লাভ আসে ভাল। মাহবুবুর রহমান বর্তমানে ৩০ বিঘা জমিতে করেছেন বরই চাষ। অর্ধশত শ্রমিকের হচ্ছে কর্মসংস্থান। ফলন ও দাম পাচ্ছেন ভাল। বেশি লাভের আশা করেন উদ্যোক্তা মাহবুবুর রহমান।যশোরের বিভিন্ন এলাকার বাড়ছে সুমিষ্ট পুষ্টিতে ভরা রসালো ফল বরই চাষ। এ চাষ ও ক্ষেতে কাজ করে অনেকের উপার্জন হচ্ছে ভাল। প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে মাসে ১৫ হাজার টাকা পান তারা। পরিবারে ফিরছে স্বচ্ছলতা। সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের দিন কাটছে বলে জানান শ্রমিক রাকীব আহম্মেদ ও কৃষক উমর হোসেন। স্থানীয়রা জানান বরই চাষে বেশী লাভ হওয়ায় আগামীতে চাষ বাড়ানোর আশা করেন তারা।বরই ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান জানান, যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০ টাকা হতে ১১০ টাকা কেজি দরে বরই কিনে দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করেন তারা। বরইয়ের চাহিদা বাড়ছে। এতে চাষীদের সাথে ও লাভবান হচ্ছেন ব্যাবসায়ীরা।কৃষি অধিদপ্তর জানায়, পুরো শার্শা উপজেলা জুড়েই বরইচাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে বেনাপোল, বাগআঁচড়া, উলাশি, শার্শা ও কায়বা ইউনিয়নে। ৪/৬ মাসে ফলন ওঠে ঘরে। অক্টোবরের শেষে বরই তোলা শুরু হয়। চলে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত।শার্শার পিঁপড়াগাছি গ্রামের ছেলে কৃষক মাহাবুবুর রহমান (৪৫) বরইচাষ করেই জীবন-জীবিকার অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, যা অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করে মাহাবুর এখন বরইবাগান থেকে করেছেন দুইটি বাগান। গোটা বাগানজুড়ে বাউকুল, আপেলকুল ও নারকেলকুলের ভারে স্বল্প উচ্চতার গাছগুলো নুইয়ে পড়ছে মাটিতে।বরই চাষী মাহাবুবুর রহমান বলেন, মুলত এ পেশা বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য, সবাই লেখাপড়া করে চাকুরির পেছনে ছোটে। আমি লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির পিছনে না ছুটে এই বরই চাষের দিকে এগিয়ে যাই। ছোট বেলা থেবে আমার শখ একজন কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। প্রথম বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে বরই চাষ করি। সেখানে কিছু ইনভেস্ট করি। প্রথম বছরে আমি দ্বিগুন লাভ করি। সেখান থেকে আমার কৃষির প্রতি আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। আস্তে আস্তে বাগান বাড়িয়ে এখন ৩০/৩৫ বিঘা জমিতে নিজেই বরই চাষ করি। আমার বাগানে ৪০/৫০ জন শ্রমিক কাজ করে। সবাইকে নিয়ে আমি আমার জীবিকা নির্বাহ করি। আর যারা শ্রমিক আছে তাদেরও আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বরই চাষে আমিও শ্রমিকরা খুবই খুশি।শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, প্রকৃতিক আবহাওয়া ভাল থাকায় বরইয়ের ফলন হয়েছে ভাল। কৃষকেরা হচ্ছেন লাভবান। বরই চাষে সব ধরনের প্রশিক্ষন, পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন কৃষি অধিদপ্তর। আগামীতে এ উপজেলায় বরই চাষ বৃদ্ধির আশা করছি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
