রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় গরুর মাংস বিক্রির জায়গায় বিভিন্ন আবর্জনা ও জমে থাকা পঁচা পানি ও কাঁদা থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) সরেজমিনে তারাগঞ্জ বাজারের ধুলিয়ার মোড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রির জায়গায় গিয়ে দেখা যায় গরুর রক্ত, গরুর গোবর, জমে থাকা কাঁদাপানি থেকে অসহনীয় দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। তারাগঞ্জ বাজারের ধুলিয়ার মোড় এই বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। গরুর মাংস বিক্রির জায়গাটির পাশ দিয়ে চলে গেছে হাজারীহাট ও নীলফামারী যাওয়ার রাস্তা। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজারো মানুষ চলাচল করে। ওই পথ দিয়ে তারাগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার জন্য অনেক শিক্ষার্থী আসে। দুর্গন্ধের কারণে নাকমুখ চেপে ধরে শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। তারাগঞ্জ ও/এ কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোঃ আজমল হোসেন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে মাদ্রাসায় যাই। আমার বাড়ি হামুরহাটে। এই জায়গায় এত দুর্গন্ধ যে নাকমুখ চেপে ধরে হাটলেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যায়না। দীর্ঘ দিন থেকে এরকম থাকলেও কেউ পরিষ্কারের জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি।’ধুলিয়ার মোড় এলাকার ভ্যানচালক নাসিম হোসেন বলেন, ‘গরুর মাংস হাটির পাশেই আমাদের ভ্যান দাঁড়ানোর ষ্ট্যাণ্ড। আমি তারাগঞ্জ বাজার থেকে হাজারীহাট পর্যন্ত যাত্রী আনানেওয়া করি। দিনের বেশিরভাগ সময়েই আমাকে এখানে ভ্যান দাঁড় করিয়ে থাকতে হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় মাংস হাটির পঁচা দুর্গন্ধে নাকমুখ চেপে ধরে থাকি। এর দুর্গন্ধের ফলে আমরা এই রাস্তার ভ্যানচালকেরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছি।’তারাগঞ্জ বাজারে গরুর মাংস কিনতে আসা বাহাগিলী এলাকার হাসানুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘খুব বাজে অবস্থা এখানকার। নতুন কতগুলো সেট বানিয়েছে। সেটের মাঝখানে মাংসের রক্ত ও কাঁদামাটির দুর্গন্ধ ও আরেক পাশে অনেকগুলো গরুর গোবর জমে রেখেছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও সেখানকার মশামাছি উড়ে এসে মাংসে বসছে। কসাইরা সেই মাংস আমাদের ক্রেতাদের দিচ্ছে।’তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন ছুটিতে থাকায় তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা বলেন, ‘আমি কিছুদিনের দায়িত্বে আছি তারপরও বিষয়টা দেখছি।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
