টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কলেজপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে (মলি, ছদ্মনাম) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের শ্বশুর ও স্বামীর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। ঘটনার চার দিন পর গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নিজ বাসার একটি কক্ষ থেকে ওই গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯ মার্চ নিজ বাসার একটি কক্ষে বিছানার ওপর চিত হয়ে থাকা অবস্থায় মলির লাশ পাওয়া যায়। স্বজনদের দাবি, লাশের পায়ের কাছে ওড়না, মাথার কাছে গামছা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। দীর্ঘ চার দিন নিখোঁজ বা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর এই অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে মলির শ্বশুর নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নুরুল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ইন্সপেক্টর।নিহতের স্বজনদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মলিকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সেই বিরোধ ও লালসার সূত্র ধরেই মলিকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ। ঘটনার পর থেকে মলির স্বামী কাদের মিয়া এবং শ্বশুর নুরুল ইসলাম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।নিহতের বড় বোন পলি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, “লাশ বুঝে নেওয়ার সময় পুলিশ আমাদের একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলে। আমরা সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর দিই। পরে জানতে পারি, সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে সুরতহাল রিপোর্টে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।” এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পরিবার।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
