রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়ার ‘কিলিং মিশনে’ সরাসরি অংশ নেওয়া ২ শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীর মিরপুর-১ এর পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ এর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন কোম্পানি কমান্ডার (সদর কোম্পানি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক অভিযানে এই দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কিলিং মিশনে অংশ নেয়।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হেলমেট ও মুখোশ পরা তিন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ নামের একটি দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠে এবং দ্রুত না চালানোয় চালক আরিফ হোসেনের (১৮) কোমরে গুলি করে। আহত অবস্থায় চালককে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। আর রক্তাক্ত অবস্থায় কিবরিয়াকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জনি ভূঁইয়া (২৫) নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার ওরফে দীনা বাদী হয়ে মঙ্গলবার পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি হিসেবে জনিসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অপর আসামিরা হলেন- সোহেল ওরফে পাতা সোহেল ওরফে মনির হোসেন (৩০), সোহাগ ওরফে কালু (২৭), মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম (২৮) ও রোকন (৩০)। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত-আটজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পল্লবী থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।
দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কিবরিয়া দোকানে ঢোকার দু-তিন সেকেন্ডের মধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি করতে শুরু করে। দুর্বৃত্তদের একজনের পরনে পাঞ্জাবি ও দুজনের গায়ে শার্ট ছিল। প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ও মুখে মুখোশ ছিল। এ সময় দোকানে ৯ জন ছিলেন। দুর্বৃত্তদের একজন কিবরিয়াকে গুলি করতে শুরু করলে ভয়ে দোকানে থাকা লোকজন বেরিয়ে যান। কিবরিয়াকে দুজন গুলি করে। এ সময় কিবরিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাদের একজন আরও তিনটি গুলি করে দ্রুত বেরিয়ে যান।
এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
