যুক্তরাষ্ট্রে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থার মধ্যেই বেতনহীন অবস্থায় কাজ করে যাওয়া ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশ জারি করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প ।বৃহস্পতিবার তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে বেতন না পাওয়া প্রায় ৫০ হাজার টিএসএ কর্মীর পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেবেন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে—গত বছর পাস হওয়া কর ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালা সংক্রান্ত আইনের অধীনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দেওয়া তহবিল থেকেই এ অর্থ পরিশোধ করা হতে পারে।হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টিএসএ কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। এর ফলে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে, কোথাও কোথাও যাত্রীদের দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে শত শত কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বা কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন।অর্থায়ন সংকট নিরসনে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের ওপর দোষ চাপালেও, ডেমোক্র্যাটরা আলাদাভাবে টিএসএ’র অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল, যা বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।এই অচলাবস্থার মূল কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিকে ঘিরে বিরোধ। ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপের শর্তে অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। সিনেটে এখনও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় সংকট অব্যাহত রয়েছে। রিপাবলিকান নেতা জনথনি ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে “স্বল্পমেয়াদি সমাধান” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেত্রী রোসা ডিলাওরো বলেছেন, ৪১ দিন পর কর্মীদের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও প্রশাসনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে—কোন তহবিল থেকে এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।এদিকে প্রতিনিধি পরিষদ ইতোমধ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পূর্ণ অর্থায়নের একটি বিল পাস করলেও, সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তা এখনো আটকে আছে।বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে আসন্ন ছুটির মৌসুমে বিমানবন্দরে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেতে পারে।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
