পবিত্র ঈদুল ফিতরের ৭ দিনের সরকারি ছুটির মধ্যেও বরিশাল জেলায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়।বরিশাল পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও মুলাদীরই ১০টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মোট ৫৪টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খোলা রেখে সেবা প্রদান করা হয়েছে।ঈদের ছুটির এই সময়ে এসব কেন্দ্র থেকে মোট ২ হাজার ৫শ’ ৩০ জন সেবাগ্রহীতা চিকিৎসা নিয়েছেন।পরিবার ও পরিকল্পনা অফিস তথ্য সূত্রে আরো জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির এই ৭ দিনে প্রায় ১০টি স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্পন্ন হয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রে।বিশেষ করে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮ মার্চ দাড়িয়াল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একটি এবং ১৯ মার্চ কাকরধা ১০ শয্যা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আরেকটি স্বাভাবিক প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়।দাড়িয়াল ইউনিয়নের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী সেফালি বেগম বলেন, “ঈদের দিন বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ি। কেন্দ্রে এসে দেখি খোলা আছে। এখানকার আপারা আমাকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।”তিনি আরো বলেন, ‘গর্ভকালীন জটিলতার কারণে হঠাৎ করে হাসপাতালে আসতে হয়েছিল। ভাবিনি এই সময়ে ভালো সেবা পাওয়া যাবে, কিন্তু মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এসে নিরাপদভাবে সন্তান প্রসব করতে পেরেছি। আশা করি বর্তমান সরকারি এইভাবেই স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত করবে। যেন কোন অসহায় মাকে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু না হয়।’এ বিষয়ে বরিশাল পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মেহবুব মোর্শেদ লিটু বলেন, “ঈদের ছুটির মধ্যেও সকল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালু ছিল। চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও কোথাও সেবা ব্যাহত হয়নি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সেবা অব্যাহত রাখতে।”ঈদের মতো দীর্ঘ ছুটিতেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
