হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব অষ্টমী স্নান উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। পাপমোচনের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো পুণ্যার্থী এই স্নানোৎসবে অংশ নিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর থেকে নদীর তীরে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ঘন হয়ে ওঠে। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্নানার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা ও পৌর শাখা এ আয়োজন করে। উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন।অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম মবিন, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক প্রদীপ কুমার সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।পুণ্যার্থীরা ভক্তিমন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নদীতে স্নান করেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে পাপমোচন হয় এবং আত্মিক পবিত্রতা লাভ করা যায়।সরেজমিনে দেখা যায়, স্নানের সময় পুণ্যার্থীরা ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরিতকি, ডাব ও আমপাতা নদীতে অর্পণ করছেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে বসেছে মেলা। বিভিন্ন ধরনের মাটির পণ্য, দেব-দেবীর মূর্তি, খেলনা, মিষ্টান্ন ও গৃহস্থালি সামগ্রীর দোকান বসেছে সেখানে। সব ধর্মের মানুষ মেলায় অংশ নিয়ে কেনাকাটা করছেন।স্নানোৎসবে অংশ নিতে আসা তপন চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবার নিয়ে এসেছি। এখানে এলে মানসিক শান্তি পাই।’আরেক পুণ্যার্থী পূজা রাণী বিশ্বাস বলেন, ‘এই স্নানের মাধ্যমে পাপমুক্তি হয়—এমন বিশ্বাস থেকেই আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসি।’হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, ‘পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক।’অষ্টমী স্নান পরিদর্শনে এসে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের ধর্মীয় উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
