পবিত্র ঈদুল ফিতরের পঞ্চম দিনেও চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটি শেষের দিকে হলেও বিনোদনের খোঁজে প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মিরসরাই—পূর্বে সুউচ্চ পাহাড় আর ঝর্ণাধারা, পশ্চিমে বিস্তীর্ণ সমুদ্র উপকূল, উত্তরে ফেনী নদী এবং মাঝামাঝি লেক ও সবুজে ঘেরা পরিবেশ মিলিয়ে যেন এক অনন্য স্বর্গরাজ্য। ঈদের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে তুলতে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে সময় কাটাতে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ।উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মহামায়া ইকোপার্ক, খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, সোনাপাহাড় প্রকল্প, আরশী নগর ফিউচার পার্ক, মুহুরী সেচ প্রকল্প ও ডোমখালী সমুদ্র সৈকত। এছাড়া নতুন করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইকোনমিক জোন এলাকায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা ‘মিনি সী-বিচ’, যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।বুধবার (২৫ মার্চ) সরেজমিনে মিনি সী-বিচ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক হাজার পর্যটক পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ে পা ভিজাচ্ছেন, কেউবা ছবি তুলতে ব্যস্ত, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন।ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. রাকিব হাসান বলেন, “অনেক দিন ধরেই মিরসরাইয়ের নাম শুনে আসছি। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে মিনি সী-বিচ জায়গাটা খুবই সুন্দর এবং এখনো অনেকটাই পরিচ্ছন্ন।”চট্টগ্রাম নগরী থেকে ঘুরতে আসা তানজিলা আক্তার বলেন, “খৈয়াছড়া ঝর্ণা আর মহামায়া লেক—দুটো জায়গাই অসাধারণ লেগেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। তবে পর্যটকদের আরও সচেতন হওয়া উচিত, যেন পরিবেশ নষ্ট না হয়।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তার বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোথাও যেন বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক রয়েছে।এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
