শিশু-কিশোরের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ জাগ্রত করতে ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাবনা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন পিএসডিও’র আয়োজনে পবিত্র মাহে রমজান মাসে নিয়মিত ৩০ দিন সালাত আদায়কারী সর্বমোট ৫৭ জন শিশু-কিশোরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।সোমবার (২৩ মার্চ ) দুপুরে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার কুমরাডাঙ্গা জামে মসজিদ চত্বরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা আলী আছগার। পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দঘন মুহূর্তে কৃতজ্ঞতা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিজয়ী শিশু-কিশোররা।স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।মসজিদে টানা ৩০ দিন নামাজ আদায় করা শিশু-কিশোরদের অভিভাবকরা জানান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাবনা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন পিএসডিও’র আয়োজনে উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগের কারণে আমাদের সন্তানেরা নিয়মিত মসজিদে আসার ফলে অনেক দ্বীনি বিষয় সঠিকভাবে শিখতে পেরেছে। শিশুদের মসজিদমুখী করতে মাঝে মধ্যেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।প্রতিযোগিতায় মোট ১১৭ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে বিজয়ী ৫৭ জনকে চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথম ক্যাটাগরিতে ৭ জনকে বাইসাইকেল, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ২৫ জনকে জায়নামাজ, ঘড়ি, ছাতা, চাবির রিং ও এক বক্স করে বিস্কুট, তৃতীয় ক্যাটাগরিতে ১৯ জনকে জায়নামাজ, ঘড়ি ও চাবির রিং এবং চতুর্থ ক্যাটাগরিতে ৬ জনকে জায়নামাজ ও চাবির রিং প্রদান করা হয়।জানা গেছে, পাবনা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (পিএসডিও) একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, সেবামূলক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কারের আয়োজনও করে থাকে।পাবনা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (পিএসডিও) সভাপতি মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বাচ্চু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মহির উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাশেম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিন বাহার, উপদেষ্টা প্রভাষক মো. ওমর ফারুক প্রমুখ।পিএসডিও’র উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম মনির জানান, এই উদ্যোগ সফল করতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন শিশুদের অভিভাবকরা, তারা বাচ্চাদের যেভাবে প্রস্তুত করে মসজিদে আসতে সহযোগীতা করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি আশাবাদী, বিগত দিনগুলোর মতো শিশুরা সামনের দিনগুলোতেও মসজিদে আসবে।পাবনা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের পিএসডিও’র সভাপতি মো. রুহুল আমিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিভিন্ন মুসলিম দেশে ক্ষুদে মুসল্লি তৈরির এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শিশুদের নামাজি হিসেবে গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শিশু-কিশোরদের এমন অসাধারণ সাফল্যে পিএসডিও পরিবার গভীর গর্ব ও আনন্দ অনুভব করছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
