চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান লাকীকে এক রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন শেষে তাঁর অবসর গ্রহণ উপলক্ষে রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী সম্মান জানান শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।রবিবার (২২ মার্চ ) বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে এসে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।বিদায়ী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান লাকী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার দায়িত্ব সততার সাথে পালন করতে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই একজন শিক্ষকের মূল কাজ। তোমরা দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবে—এটাই আমার শেষ প্রত্যাশা।”অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জনি আহমেদ বলেন, “স্যার শুধু আমাদের শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবকের মতো। তাঁর শাসন ও সোহাগ আমাদের জীবনে চলার পথের অনুপ্রেরণা।” আরেক শিক্ষার্থী রাউফীল বলেন, “স্যারের কাছ থেকে আমরা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, বরং শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা শিখেছি।”সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মো. মিজানুর রহমান লাকীকে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়িতে বসানো হয়। বাদ্যযন্ত্র ও আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে সসম্মানে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত এলাকাবাসী তাঁকে হাত নেড়ে বিদায় ও শুভেচ্ছা জানান। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।উল্লেখ্য, মো. মিজানুর রহমান লাকী ২০০৩ সালে ধোপাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন এবং দীর্ঘ ২৩ বছরের গৌরবময় শিক্ষকতা জীবন শেষে ২০২৬ সালে অবসরে গেলেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
