উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত। দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লির সমাগমকে কেন্দ্র করে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।শুক্রবার (২০ মার্চ) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন প্রস্তুতির এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার স্মৃতি মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। মাঠে ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী এবং ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণে থাকছে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন। এছাড়া ৪টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ১৩টি আর্চওয়ে গেট স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের তল্লাশির জন্য ২৮টি প্রবেশপথে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধুমাত্র জায়নামাজ নিয়ে মাঠে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।সকাল ১০টায় শুরু হতে যাওয়া এই বিশাল জামাতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধার্থে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করবে। একটি ট্রেন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ এবং অন্যটি ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করবে। ঈদের আগের দিন থেকেই শহরে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হবে।১৮২৮ সালে শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ নরসুন্দা নদীর তীরে এই মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি আছে, এক সময় এই মাঠে সোয়া এক লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন বলে এর নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা কালক্রমে ‘শোলাকিয়া’ হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্তমানে এখানে তিন লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে। করোনা মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার পূর্ণ উদ্দামে জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।জরুরি প্রয়োজনে মাঠে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস এবং ঢাকা থেকে আসা বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
