পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। আর এই আনন্দযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে দিনাজপুরের বিরামপুরে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। নিজের পরিবার-পরিজন ছেড়ে সাধারণ মানুষের ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে রাজপথে তাঁদের এই বিরামহীন শ্রম স্থানীয় জনমনে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের জায়গা করে নিয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকেই দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সেনাবাহিনীর ৭ হর্স মধ্যপাড়া সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো ছিল।সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন সেনাসদস্যরা। মহাসড়কে যানজট নিরসন এবং নিয়মিত চেকপোস্ট ও যৌথবাহিনীর তল্লাশি কার্যক্রম সাধারণ যাত্রীদের মনে এক অনন্য স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করেছে।রাত উপেক্ষা করে বিরামপুরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানজট সামলানো থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা—প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে উঠেছে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় এক বাস যাত্রী আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা যখন পরিবারের সাথে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছি, তখন এই ভাইয়েরা আমাদের নিরাপত্তায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের এই ত্যাগ আমাদের কাছে পরম সম্মানের।”৭ হর্স ইউনিটের মধ্যপাড়া সেনা ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট রাহাত জানান, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশমাতৃকার সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বিরামপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। সাধারণ মানুষের মুখে হাসি আর নিরাপদ ঈদযাত্রাই আমাদের বড় সার্থকতা।”দিন ও রাতে নিয়মিত টহল এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিরামপুর এলাকা এখন উৎসবের আমেজে মুখর। সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপ কেবল বিরামপুর নয়, পুরো অঞ্চলের মানুষের কাছে আস্থার এক অটুট প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
