পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই ভোলার প্রতিটি লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাইলেও পথে পথে নানা ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়ার শিকল ভাঙতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার সদরঘাট থেকে আসা প্রতিটি লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই হয়ে ভোলার ঘাটগুলোতে ভিড়ছে। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে লঞ্চগুলো পুনরায় দ্রুতগতিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতেও।ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ায় ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দীর্ঘ জলপথের এই কষ্টের পর ঘাটে নেমে নতুন বিড়ম্বনায় পড়ছেন তাঁরা। লঞ্চঘাট থেকে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ও সিএনজি চালকরা দ্বিগুণ, এমনকি তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন।ভুক্তভোগী যাত্রী মো. রুবেল মিয়া জানান, “লঞ্চ থেকে নামার পর ভোলা সদরে যাব, কিন্তু ৩০ টাকার ভাড়া অটোরিকশা চালকরা ১০০ টাকা চাচ্ছেন। ঈদকে ঘিরে তাঁদের এই দৌরাত্ম্য দেখার যেন কেউ নেই।” রিয়াজ নামে অপর এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “১৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে, যা রীতিমতো খামখেয়ালি। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”এদিকে লঞ্চঘাটের সামনের সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যাত্রীদের প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মূল সড়কে আসতে হচ্ছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের দাবি—গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সংকটের কারণেই তাঁরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন।যাত্রী ভোগান্তি কিছুটা লাঘব করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ‘ফ্রি বাস সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের তুলনায় এই একটি বাস সার্ভিস পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে জানান সাধারণ মানুষ।ভোলার লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ-এর একাধিক টিম কাজ করছে। ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে বিআইডব্লিউটিএ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
