বিপিএলে দারুণ এক জয়ে যাত্রা শুরু করলেও সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারল না ঢাকা ক্যাপিটালস। দ্বিতীয় ম্যাচেই এসে ধাক্কা খেল তারা। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ভালো শুরু পেয়েও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদেরকে। ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আলো ছড়ান সিলেটের আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আর ঢাকার হয়ে ব্যাট হাতে একাই লড়াই করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেন ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে দলে ফেরান তাসকিন আহমেদ ও জুবাইদ আকবরিকে। অন্যদিকে সিলেট সুযোগ দেয় আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে।ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের শুরুটা ছিল একেবারেই হতাশার। রনি তালুকদার ৭ বলে ১১ রান করে ফিরলে দলীয় রান তখন ১৫। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ওয়ান ডাউনে নেমে ব্যর্থ হন, ৭ বলে ৬ রান করে আউট হন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া সিলেটকে টেনে তোলেন সামলান পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইম আইয়ুব। ইমন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইনিংস এগিয়ে নিলেও সাইম ছিলেন বেশ সংযত। ৩৪ বলে ২৯ রান করেন সাইম। আর ইমন ৩২ বলে ৪৪ রান করে আবারও অর্ধশতক ছোঁয়ার আগেই থামেন, মারেন দুটি চার ও দুটি ছক্কা।মাঝে আফিফ হোসেন ধ্রুব ১৩ রান করে ফিরলে সিলেটের ইনিংস আবারও দুলতে থাকে। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে শুরু করেন তিনি। ইংলিশ তরুণ ইথান ব্রুকসের সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংসের গতি বাড়ান ওমরজাই। ১৫ রানে জীবন পাওয়া এই আফগান অলরাউন্ডার একের পর এক সুযোগ কাজে লাগান। ঢাকার বোলার সালমান মির্জার বলে একাধিক ক্যাচ মিস হওয়ায় আরও স্বস্তি পান তিনি।শেষ পর্যন্ত ইনিংসের শেষ বলে চার মেরে ২৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন ওমরজাই। যা এবারের বিপিএলের দ্রুততম ফিফটি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৩ রান। বিপিএলে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। উসমান খান ১৫ বলে ২১ রান করলেও সাইফ, আকবরি, মিঠুন ও নাসিরদের ব্যর্থতায় দ্রুতই চেপে ধরে চাপ। এক পর্যায়ে হার প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল।ষষ্ঠ উইকেটে শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, কেবল ব্যবধানটাই কমে আসে। সাব্বির ১৯ বলে ২৩ রান করেন, মারেন একটি চার ও দুটি ছক্কা। শামীম ছিলেন আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শেষ পর্যন্ত তিনিই জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন।শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ২৭ রান। ম্যাচের শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করা আমির সেই ওভারে দিলেন ২০ রান। তাতে উত্তেজনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত ৬ রানের হার দেখতে হলো তাদের। এতে হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস, আর দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের দেখা পায় সিলেট টাইটান্স।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
