বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।তার মৃত্যুর বিষয়টি বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং বেগম জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানও নিশ্চিত করেছেন । এর আগে, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ২টায় ডা. এ জেড জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, ‘বেগম জিয়া অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন। কাজেই এই অবস্থায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, তার সুস্থতার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করবেন।’খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি তাকে দৃশ্যপটের বাইরে থেকে একবারে রাজনীতির ‘হাইওয়ে’তে নিয়ে আসে। নিতান্তই একজন গৃহবধূ ছিলেন খালেদা জিয়া। রাজনীতির চৌকাঠ মাড়াতে হবে কোনোদিন, সে কথা হয়ত কল্পনাতেও ছিল না।বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকার প্রধান।বেগম জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে বিভক্তির পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন। তার আদি বাড়ি মূলত দেশের দক্ষিণ-পূর্ব জেলা ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।জিয়াউর রহমান বীর উত্তম যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন, তখন বেগম জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার সঙ্গী হিসেবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডের রানি জুলিয়ানার সঙ্গে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার শাহাদাত বরণের পর, তিনি ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি সাধারণ সদস্য হিসাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক আন্দোলনের সূচনা করেন। তিনি এরশাদের স্বৈরাচারের অবসান ঘটাতে ১৯৮৩ সালে গঠিত সাত দলীয় জোট গঠনের স্থপতি ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালের কারচুপির নির্বাচনের বিরোধিতা করেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। যদিও আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এরশাদের অবৈধ সরকারকে বৈধতা দেয়ার জন্য জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন শাসনের অধীনে নির্বাচনে যোগ দিয়েছিল। তার দৃঢ় সংকল্পের কারণে, তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক করা হয়েছিল। খালেদা জিয়া বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে শক্তিশালী একটি সংগঠনে পরিণত করেন যার ফলে তারা সারা দেশে ৩২১টি ছাত্র সংসদগুলোর মধ্যে ২৭০টি জয়লাভ করে। এই ছাত্ররা এরশাদের শাসনের পতনের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৮০ দশকে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কঠোর বিরোধিতা এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি আপোষহীন নেত্রী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এবি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা
দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব Read more

বিবিসির বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি ডলারের মামলা করলেন ট্রাম্প
বিবিসির বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি ডলারের মামলা করলেন ট্রাম্প

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি ডলারের মানহানির মামলা দায়ের করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘প্যানোরামা’ প্রামাণ্যচিত্রে ২০২১ সালের ৬ Read more

বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক তারেক রহমানের
বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক তারেক রহমানের

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় যমুনায় এ Read more

নায়িকাদের জীবনের বাস্তবতা নিয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান
নায়িকাদের জীবনের বাস্তবতা নিয়ে পর্দায় আসছেন রুনা খান

ছোট ও বড় পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন রুনা খান। এবার প্রথমবারের মতো তিনি আসছেন সিনেমার Read more

তিন বাহিনীর প্রধানকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ
তিন বাহিনীর প্রধানকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

আসছে বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় থাকে এবং নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন