আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী।রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত তো কোরআন-হাদিস নয়। সময় থাকলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে।’চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন লেয়াকত আলী। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেয়াকত আলী বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে আমি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলাম। আজও তারা আমার সঙ্গে আছে। সাধারণ মানুষ চাচ্ছেন আমি প্রার্থী হই। মানুষের জন্য কাজ করতেই নির্বাচনে আসছি।’তিনি আরও জানান, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আগামীকাল (সোমবার) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।বাঁশখালীর পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ও চীনের সেপকো থ্রি যৌথভাবে নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের বিরোধিতা করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন লেয়াকত আলী। স্থানীয় মানুষের জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও জীবিকা সংকটের প্রশ্নে তিনি সরব ভূমিকা রাখেন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাঁশখালীতে তাঁর একটি শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। ফলে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি নির্বাচনী মাঠে নামার আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন।এর আগে ২০০৩ থেকে ২০০৮ এবং ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গণ্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লেয়াকত আলী। ২০২২ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার কারণে চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান তিনি।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে ঠিকাদারের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বাঁশখালী থানায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন লেয়াকত আলী। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট মুক্তি পান তিনি।দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লেয়াকত আলী বলেন, ‘আমি দল করি, দলের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু মানুষের চাওয়া উপেক্ষা করা যায় না। দল যদি পুনর্বিবেচনা করে, সেটাও সম্ভব। এখনও সময় আছে।’স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেয়াকত আলীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির জন্য চট্টগ্রাম-১৬ আসনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এবং স্থানীয় ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে।এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
