নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন যখন নাভিশ্বাস তুলেছে, তখন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য নতুন স্বস্তির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। চলতি নভেম্বর মাস থেকেই টিসিবির পণ্যতালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও পাঁচটি অপরিহার্য গৃহস্থালি পণ্য–চা-পাতা, লবণ, ডিটারজেন্ট পাউডার, গোসলের সাবান এবং কাপড় ধোয়ার সাবান।টিসিবি সূত্র জানিয়েছে, এসব পণ্যের সরবরাহ ইতোমধ্যে সম্পন্নের পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার কার্ডধারী পরিবারগুলো নতুন পণ্যসহ টিসিবির প্যাকেজ পাবে।তবে বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়ে নতুন পণ্য পৌঁছেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ চূড়ান্ত হলেই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীরা প্রতি মাসে চারটি পণ্য পেয়ে থাকেন–চাল, সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি। এবার প্রথমবারের মতো পাইলট প্রকল্পের আওতায় এসব মৌলিক পণ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও পাঁচটি দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য।চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫টি উপজেলায় ৫০ হাজার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবার এই নতুন সুবিধার আওতায় আসবে। এদের প্রত্যেকে তাদের কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে আগের প্যাকেজের সঙ্গে চা-পাতা, লবণ, গোসলের সাবান, কাপড় ধোয়ার সাবান এবং ডিটারজেন্ট পাউডার ক্রয়ের সুযোগ পাবেন নির্ধারিত মূল্যে।টিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব নতুন পণ্য নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয়ের ভার কিছুটা হলেও হালকা করবে। কারণ, বাজারে এসব পণ্যের দাম প্রতিদিনই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্তমানে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বরাদ্দ রয়েছে ৩ লাখ ৯৬৩টি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্ড পেয়েছে মাত্র ৬০ হাজার পরিবার, যা মোট বরাদ্দের এক-পঞ্চমাংশও নয়।অন্যদিকে জেলার ১৫টি উপজেলায় বরাদ্দ ২ লাখ ৩৫ হাজার কার্ডের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার পরিবারের মাঝে। অর্থাৎ, এখনো ৭৫ হাজারেরও বেশি পরিবার অপেক্ষায় রয়েছে কার্ড পাওয়ার।টিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্ড বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো বরাদ্দ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীরা প্রতিবার টিসিবির ডিলার পয়েন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য নির্ধারিত দামে ক্রয় করতে পারেন। বর্তমান প্যাকেজে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা দরে ৫ কেজি, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকা দরে ২ লিটার, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা দরে ২ কেজি এবং চিনি ৭০ টাকা দরে ১ কেজি পাওয়া যায়।এই চারটি পণ্যের মোট মূল্য ৫৪০ টাকা।নতুন সংযোজিত পাঁচটি পণ্যের দাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি, তবে টিসিবি সূত্র জানিয়েছে, সেগুলো বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে।গত কয়েক মাসে টিসিবির ট্রাকসেল বন্ধ থাকায় নিম্নবিত্ত মানুষদের মাঝে তীব্র হতাশা দেখা দেয়। বাজারে দ্রব্যমূল্যের অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যায়।টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু হলে সাধারণত বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় দীর্ঘ সারি ও ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা। কোনো কোনো স্থানে এক ঘণ্টার মধ্যেই সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। লাইনে দাঁড়ানো বহু মানুষকে খালি হাতে ফিরতে হয়।তবে নতুন এই পণ্য সংযোজন এবং নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হলে ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।টিসিবির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, “নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে টিসিবির কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আমাদের পণ্যতালিকায় চা-পাতা, লবণ, ডিটারজেন্ট পাউডার, গোসলের সাবান ও কাপড় ধোয়ার সাবান যুক্ত করা হচ্ছে। সরবরাহ এখনও পাইনি, তবে আশা করছি ৭ নভেম্বরের মধ্যে পণ্য হাতে পাব। সরবরাহ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ শুরু হবে।”তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দ পর্যাপ্ত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে কেউ বাদ না পড়ে।”চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম জানান, “আগে ট্রাক সেলে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট করতে হতো। এখন যদি কার্ডে সব পণ্য একসাথে পাওয়া যায়, তাহলে অনেক স্বস্তি মিলবে।”মোহরা এলাকার রিকশাচালক সালাম উদ্দিন বলেন, “বাজারে চাল, তেল, সাবান–সবকিছুর দাম বাড়ছে। টিসিবি যদি সস্তায় দেয়, তাহলে সংসারটা একটু টিকবে।”ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
