মিরপুরে নামার আগে প্রতিপক্ষ দলগুলোর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ উইকেট। সব দলই ম্যাচের আগের দিন পিচ খুঁটিয়ে দেখে রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। গত দুই দিন নিয়ম করে পিচ পর্যবেক্ষণ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন স্যামি। কিন্তু কালো মাটির উইকেট ঠিক কতটা বুঝতে পেরেছেন, সেটিই এখন প্রশ্ন।সামির কাছে রহস্যময় হলেও এই উইকেট সম্পর্কে ভালোই জানেন বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স। কারণ টনি হেমিংয়ের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে তাঁর চাওয়া মতোই পিচ। গামিনি ডি সিলভার পর মিরপুরে উইকেট তৈরিতে এখন হেমিংয়েরই দায়িত্ব। স্পোর্টিং উইকেট বানানোর তার সামর্থ্য নিয়ে আলোচনা চলছে।কালো মাটির পিচ৬ সাধারণত স্পিনারদের জন্য স্বর্গ হয়ে থাকে। ম্যাচের আগের দিন পিচ দেখে স্যামি বলেছিলেন,‘ ঠিক কীভাবে ব্যাখ্যা করব জানি না… এমন কিছু আগে দেখেনি। আমরা জানি উপমহাদেশের কন্ডিশন ব্যাটারদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং।’বাংলাদেশে বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে ক্যারিবিয়রা। প্রথম ইনিংসের খেলা বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, পিচে স্পিনাররাই প্রভাব বিস্তার করেছে। টার্ন, নিচু হয়ে আসা বল, ধীরগতির উইকেট— সব মিলিয়ে রোমারিও শেফার্ড ও খারি পিয়েরের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটাররা খেলেছে টেস্ট মেজাজে।আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ হওয়ার দুই বল আগেই অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইনিংস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় সব ব্যাটারই খেলেছেন টেস্ট মেজাজে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছেন তাওহীদ হৃদয়। তবে এ রান করতে তিনি খেলেছেন ৯০ রান। শেষদিকে কেবল রিশাদ হোসেন ব্যাট করেছেন ২০০ স্ট্রাইক রেটে। এছাড়া আর কারো ব্যাটেই দেখা যায়নি ওয়ানডের সাবলীল ব্যাটিং। মিরপুরের পিচ নিয়ে বরাবরই বিতর্ক থাকে। ক্রিকেটাররাও চান ব্যাট-বলের সমান লড়াইয়ের উইকেট। কিন্তু ভালো উইকেট মানেই শক্ত প্রতিপক্ষেরও বাড়তি সুযোগ। র্যাংকিংয়ের পয়েন্ট বাড়াতে এবং সিরিজে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যেই বোঝা যাচ্ছে পিচে বাড়তি স্পিনের ছোঁয়া রাখা হয়েছে।দীর্ঘ ১৬ বছর মিরপুরের কিউরেটর ছিলেন গামিনি ডি সিলভা। অভিযোগ ছিল, তিনি ভালো উইকেট বানাতে পারছেন না। এবার নতুন দায়িত্বে এসেছেন টনি হেমিং। তাঁর হাত ধরেই পিচে এসেছে নতুন ‘কালো রহস্য’।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
