ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় গর্ভবতী নারী শ্রমিক তাজমিনা খাতুনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কানাডিয়ান মালিকানাধীন গিল্ডেন গ্রুপের ৩টি কারখানায় শ্রমিকরা চতুর্থ দিনের মতো আজও কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানা ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার গিল্ডেন অ্যাক্টিভ ওয়্যার বিডি লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে আজও শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছে। এদের সাথে যোগ দিয়েছেন জামগড়ার গিল্ডেন গার্মেন্টস লিমিটেড ও নয়ারহাটের এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল কারখানার শ্রমিকরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মালিক কর্তৃপক্ষ তিনটি কারখানাই বন্ধ রেখেছে।গত সোমবার ১৩ তারিখ বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গিল্ডেন গ্রুপের শ্রমিক তাজমিনা খাতুন (২৫)। তিনি নয়ারহাটের এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, গর্ভবতী অবস্থায় অসুস্থ হলে তাজমিনার ছুটি ও চিকিৎসা সহায়তা করেনি কর্তৃপক্ষ। সহকর্মীরা চাঁদা তুলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চাইলে তাতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।শ্রমিকদের দাবি, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু বিদেশি কর্মকর্তা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণসহ নানা অনিয়ম করে চলেছেন। এ সকল দায়ীদের বিদেশি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে আন্দোলনের মধ্যেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং আলোচনা চালিয়ে শ্রমিকদের শান্ত রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে শ্রমিক নেতা ও প্রশাসনের আশ্বাসে শনিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হলেও শ্রমিকদের দাবি দাওয়া মেনে না নেওয়ায় আজ সকাল থেকে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেছে শ্রমিকরা।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
