চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন-রাতের বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, পড়াশোনা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে ঘরোয়া জীবন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।বুধবার (১৫ অক্টোবর) দিনভর চলা লোডশেডিং ছিল সর্বোচ্চ মাত্রায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময় পাঁচ থেকে সাতবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। কোথাও এক ঘণ্টা, আবার কোথাও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকা গ্রাহকরা জানান, ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম থমকে যাচ্ছে, আর প্রচণ্ড গরমে বাসাবাড়িতে অবস্থান করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পর্যায়ে।পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলায় বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৯ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল প্রায় ৯ মেগাওয়াট, যা সামাল দিতে গিয়ে ঘনঘন লোডশেডিং দিতে হয়েছে।কেঁওচিয়া এলাকার গৃহিণী নুরুন নাহার বলেন, ‘সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫-৭ বার বিদ্যুৎ চলে গেছে। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলায় পাম্পের সাহায্যে ঠিক মতো পানিও ওঠানো যাচ্ছে না। দুপুরে অসহনীয় গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে, বাধ্য হয়ে বাইরে বসে থাকতে হয়।’ঢেমশা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু-বয়স্করা। শুধু আজ নয়, গত দুই দিন ধরে এমন অবস্থা চলছে। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে সহ্য করা যায়, কিন্তু রাতের বেলায়ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে সত্যিই অসহ্য লাগে।’কেরানীহাটের ব্যবসায়ী মো. তারেক বলেন, ‘বারবার লোডশেডিং হচ্ছে। বিক্রিও কমে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি।’পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাতকানিয়া জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. শহিদ বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমরা মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে যতটুকু বিদ্যুৎ পাই, ততটুকুই এলাকাভেদে বণ্টন করি। আশা করছি খুব শিগগিরই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’এদিকে, দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে। শিক্ষকরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান ও লাইট চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে।অন্যদিকে, স্থানীয় ক্লিনিক ও ফার্মেসিগুলোর বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের এই অস্থিরতা যদি দ্রুত না কাটে, তাহলে কৃষি, ব্যবসা ও সাধারণ জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
