চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে শত শত হেক্টর জমিতে। উপজেলার অন্তত সাতটি ইউনিয়নের মাঠ এখন বোরো কিংবা আমনের শস্যে ভরে ওঠার বদলে রূপ নিয়েছে জলাশয়ে। এক দশক আগেও এসব জমিতে ফলত শাকসবজি, ধান ও নানা ফসল, আজ সেখানে জল থৈ থৈ করছে।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কেঁওচিয়া, ঢেমশা, নলুয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, পুরানগড় এবং সদর ইউনিয়নের কয়েকটি অংশে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমি চাষাবাদের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষত ঢেমশা ও নলুয়া ইউনিয়নের এলাকাগুলোতে অনাবাদি জমির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, সাতকানিয়া উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৩ হাজার ১৭০ হেক্টর, যার মধ্যে অন্তত ২৫০ হেক্টর বর্তমানে অনাবাদি। অর্থাৎ, উপজেলার মোট কৃষিজমির প্রায় ২ শতাংশেরও বেশি জমি এখন উৎপাদনের বাইরে।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক দশকে ইটভাটার মাটি সংগ্রহের জন্য ব্যাপকভাবে কৃষিজমির মাটি কাটা হয়েছে। এতে করে জমির নিচের অংশ জলধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, তৈরি হয়েছে গভীর খাদ। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় এসব জমি এখন স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে।ঢেমশা ইউনিয়নের কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে জমিতে তিন মৌসুমে ধান চাষ হতো। এখন মাটি কেটে নেওয়ায় জমি ৩০-৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে।’নলুয়া ইউনিয়নের প্রবীণ কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ৩ বিঘা জমি এখন জলাশয়। আগে ধান, আলু, ঢেঁড়স চাষ করতাম। এখন শুধু মাছের পোনা ছেড়ে রাখি, তাও বেশি ফলন হয় না।’কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অবাধে চলে মাটি কাটা ও জমি ভরাট। মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও ইটভাটা।কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে ফসলি জমি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এখন এই জমিগুলোতে কোনো চাষাবাদ হয় না, শুধু পানি জমে থাকে।’কৃষিবিদদের মতে, এই অনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনলে শুধু সাতকানিয়া নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অনাবাদি জমি ব্যবহার করা গেলে হাজারো কৃষকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সাতকানিয়ায় অন্তত ২৫০ হেক্টর জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি অবস্থায় আছে। এর বড় অংশই ঢেমশা ও নলুয়া এলাকায়। ইটভাটার জন্য মাটি খননের পর এসব জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে আমরা এসব জমি পুনরায় চাষাবাদের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে ভাবছি। তবে এজন্য জমির মালিক এবং ইটভাটার আশপাশের এলাকার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
