কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে জসিম উদ্দিন মিসবাহ নামের এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে পিএমখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জুমছড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত মিসবাহ ওই এলাকার দুদুমিয়ার ছেলে। দলীয় একটি ফরমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি পিএমখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুটি আহত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের কাছে ঘটনা জানায়। পরে এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটক করলে তিনি ঘটনাটি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।শিশুটির পরিবার জানায়, মিসবাহর বাড়িতে তার বোন এলাকার শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। সাড়ে তিন বছরের ওই শিশুও সেখানে পড়াশোনা করত। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে পড়তে গেলে মিসবাহ তাকে ফুসলিয়ে পাশের একটি নার্সারিতে নিয়ে যায় এবং বলৎকার করে।পরিবারের ভাষ্য, শিশুটি আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে বিস্তারিত জানালে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করেন। আটক অবস্থায় তিনি ঘটনার দায় স্বীকারও করেন।স্থানীয়দের দাবি, এর আগে তিন বছর আগে মসজিদের মোয়াজ্জেন থাকা অবস্থায়ও মিসবাহ একই ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। তখন আরেক শিশুকে বলৎকারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ের পর দুবাই পালিয়ে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে আবার এলাকায় বসবাস শুরু করেন।এলাকাবাসীর মতে, একাধিকবার একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরও মিসবাহর বিরুদ্ধে এখনো কেন আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।প্রতিবেদকের হাতে আসা দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত নিজেই শিশুকে বলৎকারের বিষয়টি স্বীকার করছেন। পাশাপাশি পূর্বের ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়া এবং গণধোলাইয়ের পর বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। অনেকে বলছেন তিনি জামায়াত নেতা, তবে আমি নিশ্চিত নই।’অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মিসবাহর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।পিএমখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মেসেঞ্জারে কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
