খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদরে একটি এবং গুইমারায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সিঙ্গীনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অবরোধ চলাকালে জেলা শহরের সদর উপজেলায় হামলা, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি সদর থানায় এসআই শাহরিয়ার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬০০-৭০০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, ভাঙচুর ও দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এসআই ইমাম হোসেন।খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এদিকে গুইমারা উপজেলায়ও হামলা, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সহিংসতায় তিনজন নিহত হন। গুইমারার সহিংসতায় তিনজনের নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা এবং পুলিশের ওপর হামলা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে অজ্ঞাত ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে পৃথক আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী এই ২টি মামলা দায়েরের তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গুইমারায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা হয়। এ সময় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে ধানক্ষেত থেকে ৩ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলায় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি এবং সহিংসতা, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আড়াইশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মামলা না করায় গুইমারা থানার এসআই সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলা করেন।এদিকে খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা সদরের মহাজনপাড়া, স্বনির্ভর ও উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাত সাত থেকে আটশ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল গণমাধ্যমকে জানান, গুইমারায় নিহতদের পরিবার থেকে কেউ মামলা দায়ের করেনি। এছাড়া গুইমারা ও খাগড়াছড়িতে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। ফলে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা রুজু করে।প্রশাসন জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে জুম্ম ছাত্র-জনতা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এরপর থেকেই খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তী সময়ে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পায়নি।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
