কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ব্রহ্মপুত্র নদে মাছ ধরতে গিয়ে মো. ওয়াসিম মিয়া (১৮) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছে আরও চার বন্ধু। নিখোঁজের ১০ ঘণ্টা পার হলেও নিখোঁজ যুবকের সন্ধান মেলেনি।বুধবার (০১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের নলবাইদ পূর্বপাড়া গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে এ ঘটনা ঘটে।নিখোঁজ ওয়াসিম মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের নলবাইদ পূর্বপাড়া গ্রামের উছমান মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন, একই গ্রামের মো. আতিকুল মিয়ার ছেলে মো. ফাঈম মিয়া (১৫), মৃত বাদল মিয়ার ছেলে মো. আরিফুল (১৭), মো. রুস্তম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম মিয়া (২১) ও আলম মিয়ার ছেলে আদনান মিয়া (১৬)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পাঁচ বন্ধু একসাথে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে পুরানো ব্রহ্মপুত্র নদে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। পানিতে নেমে সাতরিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পরই ওয়াসিম পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় সঙ্গীকে বাঁচাতে চেষ্টা করে বাকি চার বন্ধু। কিছু সময় চেষ্টা করে তারাও পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এ দৃশ্য নদে থাকা জেলেদের নজরে পড়লে জেলেরা চার বন্ধুকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী বেলাব উপজেলা সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারাও উদ্ধার অভিযানে নামেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পায়নি। এই পাঁচজনেই স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী।এদিকে নিখোঁজের পর ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শত শত মানুষ ও নিখোঁজের আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে পড়ে। স্বজনদের দাবি, জীবিত না হোক অন্তত লাশ পাওয়া গেলে তাকে দাফন করতে পারবেন।কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের লিডার ইলিয়াস জানান, সন্ধ্যা হওয়ায় অভিযান স্থগিত করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পায়নি। এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
