টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু সাইদ স্বপনের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বরে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তিন মাসের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিমা আক্তারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেছে।বুধবার (০১ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি সময়ের কণ্ঠস্বরে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাজিব হোসেন।জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অংশ হিসেবে দরিদ্র নারীদের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে ভিডব্লিউবি কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পান। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপকারভোগীকে নিজের নামে ব্যাংক বা এনজিওতে হিসাব খুলে প্রতিমাসে নির্ধারিত ২২০ টাকা জমা দিতে হয়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফলদা ইউনিয়নের ২৮৬ জন কার্ডধারীর কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি। বরং গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে জনপ্রতি ২২০ টাকা সংগ্রহ করা হতো। এভাবে তিন দফায় অন্তত ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ভাতাভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।এ নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘ভূঞাপুরে ভাতাভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের পকেটে’ শিরোনামে সময়ের কণ্ঠস্বরে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এর পরদিনই প্যানেল চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রাম পুলিশরা ভাতাভোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিন মাসের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেন।জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু সাইদ স্বপন বলেন, ‘আপনি আমার বিষয়ে হাবিজাবি লিখেছেন, যা ঠিক করেননি।’ তিনি জানান, প্রত্যেক ভাতাভোগীর হাতে টাকা দিয়ে তাদের নামে সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে দেওয়া হয়েছে।এদিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমিনা বেগম এবং তদন্ত কমিটির প্রধান রিমা আক্তার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাজিব হোসেন বলেন, ‘সময়ের কণ্ঠস্বরে সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিতে মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
