হাসপাতালে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের মৃত্যুর আগের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ছবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কারা কর্তৃপক্ষ।এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ছবিটি কোনোভাবেই তার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থার নয়। মৃত একজন ব্যক্তিকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো দায়িত্বহীনতা ও অনৈতিকতার শামিল।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অসুস্থতার কারণে কারাবন্দি অবস্থায় সাবেক এই মন্ত্রীকে একাধিকবার যথাযথ নিয়মে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।বাংলাদেশ কারা কর্তৃপক্ষ পুনরায় নিশ্চিত করেছে, সকল বন্দির মানবিক মর্যাদা রক্ষায় তারা সর্বদা দায়িত্বশীল এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।প্রসঙ্গত, গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায় তার হাতে হাতকড়া পড়ানো।ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। দীর্ঘ এক বছর কারাভোগের মধ্যে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, আক্রমণ ও হত্যার অভিযোগে একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থেকে সাবেক মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাকে একাধিকবার আদালত ও হাসপাতালে নিতে হয়েছে। এ সময় তাকে হাতকড়া পরানো হয়।তার বিরুদ্ধে ঢাকায় চারটি এবং নরসিংদীতে একটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। তিনি কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
