কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারীভাবে বরাদ্দ চাল নিয়ে নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে অর্ধেক দামে নগদ টাকা গ্রহণে বাধ্য হয়েছেন পূজা উদ্যোক্তারা। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এদিকে ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন প্রতারণার শিকার হওয়ায় এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।বিভিন্ন মণ্ডপের আয়োজক পূজারীদের সূত্রে জানা যায়, এ বছর চালের পরিবর্তে দেয়া হয়েছে নগদ টাকা, যা বরাদ্দ করা চালের মূল্যের চেয়ে অনেক কম। টাকা কম দিয়ে পরস্পরের যোগসাজশে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা যায়, এ বছর কিশোরগঞ্জ জেলার ৩৮৪টি পূজামণ্ডপে মোট ১৯৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কটিয়াদি উপজেলার ৪২টি মণ্ডপে বরাদ্দ ছিল সাড়ে ২১ মেট্রিক টন চাল। প্রতি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চালের বাজারমূল্য হওয়ার কথা ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু আয়োজকদের অভিযোগ, মণ্ডপ পিছু মাত্র ১৫ হাজার টাকা প্রদান করায় ৪২টি পূজামণ্ডপ থেকে আনুমানিক ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অভিযুক্ত আত্মসাতকারী চক্র।আনন্দময়ী যুব সংঘের সভাপতি উষা রঞ্জন সরকার জানান, পূজার ব্যস্ততার কারণে চাল না দিয়ে চাপিয়ে দেয়ার কারণে বাধ্য হয়েই টাকা নিতে হয়েছে। ধর্মীয় ব্যাপারে এমনটা কাম্য নয়। তবে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা দরকার।বর্মনপাড়া পূজামণ্ডপের সভাপতি শীতল চন্দ্র বর্মণ বলেন, বরাদ্দের চাল নিতে গুদামে গেলে কর্মকর্তা বলেন, ‘স্বাক্ষর করে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান।’ এসময় উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিমাই বাবুও একই কথা বলেন। কোনো চাল দেখানো হয়নি।স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সরকারীভাবে চাল বরাদ্দের পরেও খাদ্য কর্মকর্তারা কালোবাজারিদের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশে চাল না দিয়ে কম পরিমাণে টাকা প্রদান করেন। মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদের গুদামে ডেকে এনে ফাঁকা রেজিস্টারে স্বাক্ষর করিয়ে প্রতি ডিওর বিপরীতে ১৫ হাজার টাকা নিতে বাধ্য করেন। খাদ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী দলের প্রথম সারির সুবিধাবাদী নেতাদের যোগসাজশে ও পূজা উদযাপন কমিটির দলদাস কিছু প্রভাবশালী সদস্যরাও জড়িত রয়েছে।কটিয়াদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি পূজামণ্ডপে খাবারের জন্য ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সভাপতি ও সম্পাদক ডিও সংগ্রহের পর বাকি কাজ খাদ্য বিভাগের।’এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কনক কান্তি দেবনাথের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘চালের পরিবর্তে টাকা প্রদানের বিষয়টি আপনার থেকে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চালের পরিবর্তে টাকা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
