পাহাড়, নদী আর সবুজের বুকে গড়ে ওঠা এ অঞ্চলের মানুষ আজ ভুগছে এক অদৃশ্য দানবের হাতে। নামীদামি ব্র্যান্ডের নকল জুতা তৈরি ও অনুমোদনহীন ইটভাটা পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রতারণা, পরিবেশ ধ্বংস আর জনস্বাস্থ্যের হুমকি। কিন্তু প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবে এসব কার্যক্রম প্রকাশ্যে ফুলেফেঁপে উঠেছে।অবশেষে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুটি পৃথক অভিযানে এর কিছুটা চিত্র সামনে আসে।এওচিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ি ছনখোলা গ্রামে অবস্থিত লোটাস ফুটওয়্যার লিমিটেড। বাইরে থেকে সাধারণ কারখানা মনে হলেও ভেতরে জালিয়াতির কারবার। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এডিডাস, নাইকি ও বাটার নামে নিম্নমানের জুতা তৈরি হচ্ছিল বছরের পর বছর। এ জুতা বাজারে ছড়িয়ে পড়ত আসল পণ্যের বিকল্প হিসেবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রতারণা শুধু ভোক্তার ক্ষতি করছে না, বরং আসল ব্র্যান্ডের সুনামও নষ্ট করছে। তাই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’জুতার কারখানায় অভিযান শেষে বিকেল ৪টার দিকে অভিযান গড়ায় এওচিয়ার ইটভাটাগুলোতে। অভিযানে বিসমিল্লাহ ব্রিকস, এবিসি ব্রিকস, কেএমবি ব্রিকস, মেসার্স মা ব্রিকস ও এইচএবি ব্রিকসকে এক লাখ টাকা করে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আর মেসার্স খাজা ব্রিকসকে সিলগালা করে দেওয়া হয়।ইউএনও বলেন, ‘অনুমোদনবিহীনভাবে ইট উৎপাদন পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এ ভাটাগুলো বন্ধ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ দিয়ে যাব।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
