গভীর বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যদের বেপরোয়া তাণ্ডবে দিশেহারা বাংলাদেশী জেলেরা। আবারও সাগরে মাছ শিকাররত অবস্থায় দুটি ট্রলারসহ বাংলাদেশী ১৪ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে উক্ত বাহিনীর সদস্যরা।মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে টেকনাফ উপজেলার আওতাধীন সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ শিকাররত অবস্থায় দুটি ট্রলারসহ ১৪ জেলেকে ধরে নিয়ে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।এদিকে একই দিন বিকালের দিকে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে আরাকান আর্মি সদস্যরা তাদের পরিচালিত গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে বাংলাদেশী ট্রলারসহ ১৪ জন জেলেকে আটক করার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন।বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, তাদের জলসীমায় প্রবেশ করে বাংলাদেশী জেলারা মাছ শিকার করেছিল। উক্ত অপরাধে এই ১৪ জেলেকে তারা আটক করতে বাধ্য হয়েছে।এ বিষয়ে টেকনাফ কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, দুটি ট্রলার আরাকান আর্মি আটক করেছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখনো বিস্তারিত জানতে পারছি না আসলে কোন দুটি ট্রলার আটক করেছে।খোঁজ-খবর নিয়ে বিষয়টি বিস্তারিত জানাতে পারবে বলেও জানান তিনি।পৌরসভা কায়ুকখালী ঘাটের ট্রলার মালিক ও মাছ ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা এর আগেও বাংলাদেশী ট্রলারসহ অনেক জেলেকে আটক করে নিয়ে গেছে। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তারা এখনো ফিরে আসতে পারেনি। বলতে গেলে সাগরে বেপরোয়া তাণ্ডব চালাচ্ছে আরাকান আর্মির সদস্যরা।এ বিষয়ে জানতে চাইলে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, আমিও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী ও ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদেরকে সচেতন হয়ে নিজ দেশের জলসীমা অতিক্রম না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
