পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের এই জনপদে ধর্মীয় উৎসব মানেই বাড়তি সতর্কতা। আর সেই দায়িত্ব এবারও কাঁধে তুলে নিয়েছে বিজিবি। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় শারদীয় দুর্গা পূজা-২০২৫ উপলক্ষে বিজিবি ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় পূজা মন্ডপগুলোতে এখন উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) ও লোগাং জোনের দায়িত্বাধীন মোট ১০টি পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিদিনের নিয়মিত টহল, চেকপোস্টে বডি অর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে যানবাহন তল্লাশি, ড্রোনের মাধ্যমে এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রমে উৎসবপ্রেমী মানুষ পাচ্ছেন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।এদিকে পূজা মন্ডপ পরিচালনায় জড়িত সভাপতি-সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিজিবি কর্মকর্তারা নিয়মিত মতবিনিময় করছেন। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) অধিনায়ক ও লোগাং জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম বিভিন্ন পূজা মন্ডপসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে পূজা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখরভাবে সম্পন্ন হয়। একইসাথে পানছড়ির সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আমরা সবসময় সতর্ক আছি।’তিনি আরো বলেন, ‘পূজা উদযাপন কমিটিকে নামাজের সময় মাইকের শব্দ সীমিত রাখার আহ্বান করবো, যাতে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর উপাসনায় বিঘ্ন না ঘটে। পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারীরা যাতে সুযোগ নিয়ে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন।’লে. কর্নেল রবিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা কেউ পাহাড়ি, কেউ বাঙালি এই বিভেদ ভুলে সবাই বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকি। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বিজিবি সর্বদা জনগণের পাশে আছে।’বিজিবির এমন তৎপরতায় স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তার বলয়ে উৎসবের আমেজ দ্বিগুণ হয়েছে। পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবির এ ধরনের উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।উদ্দেশ্য হাসিলকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন যাবৎ খাগড়াছড়ি এবং গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি চলমান আছে। এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও এর প্রভাব বিস্তার করলেও পানছড়ি উপজেলায় এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। এর পেছনে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও সক্রিয় ভূমিকা যেমন রয়েছে, তেমনি জনগণের সহযোগিতাও বড় কারণ। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তি-সম্প্রীতির এই আবহ টিকিয়ে রাখতে বিজিবির পাশাপাশি জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা ভবিষ্যতের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
