পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা সুপারী পাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ২০২ নং জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক গোষ্ঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দার ২০১৮ সালে ওই স্কুলে যোগদানের পর থেকেই তিনি স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে যাচ্ছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর পর ক্লাস না করিয়ে ৩ জন ছাত্রকে তার নিজ বাড়ির সুপারী পাড়ানোর জন্য নিয়ে যান।স্থানীয় বাসিন্দা আশিষ কুমার কুলু জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দার নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করেন। প্রায় সময়ই নানা অজুহাতে স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। স্কুলের পাশে স্থানীয়দের ফল, সবজি ছাত্রদের দিয়ে চুরি করিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে স্কুল উন্নয়নের শ্লিপের টাকা একাই আত্মসাৎ করে আসছেন। আশিষ কুমার কুলু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, উন্নয়নের এক টাকারও দৃশ্যমান কোনো কাজ তিনি দেখাতে পারবেন না এ শিক্ষক।পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সমির শীল ও নীলাময় জানায়, হেড স্যারে (আশুতোষ সমাদ্দার) আমাদেরকে প্রাইভেট পড়ানোর পরে তার বাড়িতে সুপারী পাড়াতে নিয়ে যায়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত হেড স্যার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের দিয়ে তার ব্যক্তিগত কাজগুলো করিয়ে নেয়। তবে এটা ঠিক না।স্কুল সংলগ্ন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের অনতিবিলম্বে শাস্তি ও বদলির দাবি জানান।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশুতোষ সমাদ্দার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর হেলাল বলেন, এ ধরনের ঘটনা হলে সেটা খুব আপত্তিকর। আমি তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মেতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
