ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে মুনাফা অর্জন করছে—এমন ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।এই তালিকায় নাম রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও প্রযুক্তি সেবাদানকারী বহু পরিচিত প্রতিষ্ঠানের। এদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এয়ারবিএনবি, বুকিং ডটকম, এক্সপেডিয়া ও ট্রিপ অ্যাডভাইজার—যাদের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে বসতি এলাকাগুলোর জন্য ভ্রমণ ও আবাসন সেবা দেওয়া হচ্ছে।জাতিসংঘ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠান এমন এলাকায় ব্যবসা করছে, যেগুলোর আইনি অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ২০০৪ সালে এক মতামতে বলেছিল, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে যারা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করছে, তাদের দ্বিগুণ সতর্ক থাকতে হবে।’তালিকায় নতুন করে ৬৮টি কোম্পানির নাম যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আগের তালিকা থেকে ৭টি প্রতিষ্ঠান বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ওপোডো এবং স্পেনের ইড্রিমস।তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই ইসরায়েলি মালিকানাধীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, ফ্রান্স ও জার্মানিভিত্তিক বেশ কিছু বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে এতে।প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই নির্মাণ, আবাসন, খনিজ ও খনি খাতে যুক্ত, যেগুলো ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সরাসরি অংশ হিসেবে বিবেচিত।জাতিসংঘ জানিয়েছে, আরও ৩০০টির বেশি কোম্পানিকে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের নিয়েও হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।এই তালিকা প্রকাশ পেল এমন এক সময়, যখন গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর দখল করে সেখানে বসতি গড়ে তোলে ইসরায়েল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বসতিগুলোর সংখ্যা ও আকার বেড়েছে। বসতি এলাকায় নির্মাণ, চেকপোস্ট ও নিরাপত্তা বেষ্টনী বসিয়ে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
