বাড়ন্ত বয়সে সঠিকভাবে পুষ্টির জোগান দিতে না পারলে বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম সমস্যা চেপে ধরবে। একপ্রকার সেই চিন্তা থেকেই চিয়া বীজ খাওয়ানোর কথা বলে হয়েছে। চাউমিন, চিপ্স, বার্গার, পিৎজ়া, মোমোর মতো বাইরের খাবার খাওয়ার ঝোঁক থাকে শিশুদের। কর্মরত বাবা-মায়েরাও সময় বাঁচাতে প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপর বেশি নির্ভর করেন। ফলে শিশুদের মধ্যে স্থূলত্বের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে জন্য শরীরচর্চা, ডায়েট এবং জীবনযাপনে বদল আনা জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চা যখন সলিড খাবার খেতে শুরু করে (সাধারণত ৬ মাস বয়স থেকে), তখন থেকেই চিয়া সিড খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অবশ্যই আগে থেকে পানিতে ভিজিয়ে পিউরি, দই বা পরিজের সাথে অল্প পরিমাণে মিশিয়ে দিতে হবে।চিয়া সিড সারা বিশ্বে ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসহ নানান পুষ্টি উপাদান, যা শিশুদের হাড়, মস্তিষ্ক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।কখন থেকে খাওয়ানো যাবে:বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চা যখন সলিড খাবার খেতে শুরু করে (সাধারণত ৬ মাস বয়স থেকে), তখন থেকেই চিয়া সিড খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অবশ্যই আগে থেকে পানিতে ভিজিয়ে পিউরি, দই বা পরিজের সাথে অল্প পরিমাণে মিশিয়ে দিতে হবে।বয়স অনুযায়ী খাওয়ানোর নিয়ম৬ মাস+: ভেজানো চিয়া সিড ফলের পিউরি, দই বা পরিজে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। শুকনা সিড সরাসরি দেওয়া যাবে না।১২ মাস+: ওটমিল, পায়েস, ফলের পুডিং বা কেক-পিঠায় ভেজানো চিয়া সিড মেশানো যায়। খাবারের ওপর অল্প শুকনা সিড ছিটিয়ে দেওয়া যাবে।১৮ মাস+: ফলের স্মুদি, জুস বা সিরিয়ালের সাথে মিশিয়ে দেওয়া যায়। চাইলে চিয়া, ফল, লেবুর রস ও পানি দিয়ে ‘আগুয়া ফ্রেসকা’ তৈরি করা যেতে পারে।কেন স্বাস্থ্যকর: চিয়া সিডে রয়েছে ফাইবার, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম, যা হাড়, রক্ত ও মস্তিষ্কের উন্নতিতে সহায়তা করে। উদ্ভিদ-ভিত্তিক ওমেগা-৩, যা মস্তিষ্ক ও হরমোনের জন্য উপকারী, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।চিয়া সিড খাওয়ার ভুলেই ডেকে আনছেন নিজের বিপদ! গোটা চিয়া সিড বাতাস-অবরুদ্ধ কন্টেইনারে সাধারণ তাপমাত্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। গুঁড়া করা সিড ফ্রিজে এক বছর পর্যন্ত রাখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাচ্চাদের জন্য এটি নিরাপদ ও পুষ্টিকর হলেও একবারে বেশি পরিমাণে খাওয়ানো উচিত নয়। ধীরে ধীরে অভ্যাস করানোই উত্তম।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
