নীলফামারীর ডোমারে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মামা শ্বশুরের কামড়ে ডান হাতে গুরুতর আহত হয়েছেন এক গৃহবধূ। গুরুতর আহত অবস্থায় বুধবার রাতে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনেরা।বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে আহতের ভাই বাদী হয়ে ডোমার থানায় মামা শ্বশুর নুর হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ডান হাতে কামড়ে আহত অবস্থায় গৃহবধূকে স্বজনেরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডোমার উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের শরীফুল ইসলাম (২৮) এর সঙ্গে একই উপজেলার পূর্ব হরিনচড়া গ্রামের ওসমান গণির মেয়ে জান্নাতুনের বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শাশুড়ির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, শাশুড়ি ফুলবানু (৪৫) প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। আহত জান্নাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে শাশুড়ি আমার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে ঝগড়া লাগলে তিনি আমার মামা শ্বশুর নুর হোসেনকে খবর দেন। তারা কয়েকজন আত্মীয় নিয়ে এসে আমাকে আক্রমণ করে, বাড়িঘর ভাঙচুর চালায় এবং আমার ডান হাতে কামড় দেয়। আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে ভাই আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।’ স্বামী শরীফুল ইসলাম জানান, ‘এর আগেও মামা শ্বশুর তার স্ত্রীকে মারধর করেছিলেন। মায়ের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সত্য। কয়েকবার গ্রাম্য শালিস হয়েছে, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।’ অভিযুক্ত শাশুড়ি ফুলবানু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বলেন, ‘বউ আমার উপর হাত তুলেছে, তাই হাতাহাতি হয়েছে। তবে কোনো পুরুষ তাকে মারেনি।’ জান্নাতুনের ভাই সুজন ইসলাম বলেন, ‘বোনের ফোন পেয়ে দ্রুত গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমাকে দেখে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়। পরে লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করি।’ এ ঘটনায় হরিনচড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাছেল রানা বলেন, ‘বউ-শাশুড়ির মধ্যে মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষই হাসপাতালে ভর্তি আছে। তারা সুস্থ হলে মীমাংসার চেষ্টা করা হবে। এর আগেও তাদের পারিবারিক সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।’ ডোমার থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কাওছার আলী বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
