চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এবার ১৯০টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। এর মধ্যে তিনটি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পূজা উদযাপন পরিষদ। পূজার সময় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই মণ্ডপগুলোতে থাকবে বাড়তি নজরদারি। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উসকানি ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা অনুষ্ঠান ২ অক্টোবর মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। পূজার আগে প্রতিমা নির্মাণ ও রঙতুলির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। শিল্পীদের নিপুণ হাতে গড়ে উঠছে দেবী দুর্গার নানা রূপ।সাতকানিয়া পৌরসভা ও উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে এবার ১৯০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিনটি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান সাতকানিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক রাজীব কুমার ধর।তিনি বলেন, ‘আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে। এজন্য প্রতিটি মণ্ডপেই নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সবসময় তৎপর থাকবেন।’পূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, পূজা উদযাপন পরিষদ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পূজার সময় নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, পূজার সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল থাকবে।তিনি আরও জানান, পূজার আগে কিংবা পরে কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতে না পারে, সেজন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা।সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন পারভেজ জানান, পূজা উপলক্ষে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর দুটি টিম উপজেলাজুড়ে টহল দেবে। পাশাপাশি ঠাকুরদীঘি, দস্তিদারহাট এবং কেরানীহাট বা মৌলভীর দোকান এলাকায় তিনটি স্ট্যান্ডবাই পেট্রল টিম নিয়োজিত থাকবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
