আলোচিত সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে অর্থ পাচারের বাংলাদেশি এজেন্ট আব্দুল আজিজ ও তার দেশের সম্পদ দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পালকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে তোলা হয়েছে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষে দেশে বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন আব্দুল আজিজ ও উৎপল। তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, দুর্নীতি ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “এই দুজনের মাধ্যমে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আর্থিক লেনদেনের নানা দিক পরিষ্কার হতে শুরু করেছে।”এদিকে আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তকারী সংস্থা বলছে, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তার শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে। কারণ সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরে দেশ-বিদেশে যে অভিযোগের জাল তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই এখন উন্মোচিত হওয়ার পথে।জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রী রুকমীলার নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে-৯টিসহ অন্যান্য দেশেও বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/জমিসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত। এছাড়া গত ৫ মার্চ অপর এক আদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) আদেশ দেন আদালত। এসব ব্যাংক হিসাবে তাদের ৫ কোটি ২৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা রয়েছে।অপর আদেশে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুজ্জামানের ১০২ কোটি টাকার শেয়ার ও ৯৫৭ বিঘা জমি জব্দেরও আদেশ দেন আদালত। আর ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
