কক্সবাজারের টেকনাফে উপকূলীয় এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই চক্রের সদস্যরা দেশের বাইরে থাকা মানবপাচারকারীদের সহায়তায় তাদের অপকর্ম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।এদিকে মানবপাচার প্রতিরোধে সীমান্ত প্রহরী বিজিবির সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি পাচারে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে তাদের চলমান অভিযান অব্যাহত রেখেছে।তারই ধারাবাহিকতায় অবৈধভাবে সাগর পথে মানবপাচার করার সময় মালয়েশিয়াগামী ১১ ভিকটিমকে উদ্ধার করার পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের ১২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে বিজিবির অভিযানিক দল।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উক্ত অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান।তিনি বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি অভিযানের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে হঠাৎ করে কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্ত উপকূলীয় এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের ভয়াবহতা বেড়েছে।উক্ত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী বিজিবির টহল জোরদার করার পাশাপাশি নদী ও সাগর উপকূলবর্তী পৃথকভাবে দুটি অভিযান পরিচালনা করে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ও সদর ইউনিয়নের বরইতলী এলাকা থেকে ১১ ভিকটিম উদ্ধার করে এবং পাচারকারী চক্রের ১২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।ধৃত ১২ পাচারকারী হচ্ছে- টেকনাফের বাসিন্দা মো. আব্দুর রশিদ (৩৫), মো. মিজানুর রহমান (২০), জাহেদ (১৮), মো. জুবায়ের (৩৩), নুরুল আবছার (১৮), মো. ইসমাইল (৩২), মো. ইমরান (২৮), নুর মোহাম্মদ (৪০), খুরশিদা বেগম (৩৪), রোহিঙ্গা নাগরিক মো. আবু তৈয়ব (২৫), মো. ইদ্রিস (৩৫), মাহমুদুল্লাহ (৩০)।পাচারকারী চক্রের কবলে পড়া উদ্ধারকৃত ১১ জন মালয়েশিয়াগামী ভিকটিমকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।এর আগে গত জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্ট মাসে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে এই পর্যন্ত ১৭ জন মানবপাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি।২ বিজিবি অধিনায়ক কর্নেল আশিকুর রহমান আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় উক্ত এলাকায় বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র ও দেশে থাকা উক্ত চক্রের সদস্যদের সহায়তায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত মানব ও মাদক পাচারের সাথে জড়িত।এর মধ্যে বাংলাদেশে থাকা হোসেন, সাইফুল এবং নিজাম। দেশে থাকা এই তিন ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অবৈধভাবে সাগর পথে মানবপাচার অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।ধৃত ১২ মানবপাচারকারীকে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে আড়ালে থাকা এই তিন পাচারকারীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
