গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বারোতোপা এলাকায় অবস্থিত খান টেক্স লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা।শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় তারা আন্দোলনে নামেন। এর পরপরই কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই (২৩ জুলাই) কারখানা বন্ধ করে দেয়। এতে কয়েকশ শ্রমিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।শ্রমিক সেলিম খান জানান, ‘আমরা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছি। হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় এখন না পাচ্ছি বেতন, না পাচ্ছি কাজ। আমাদের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যেতে বলা হয়েছে। ওইদিন পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদি টাকা না দেয়, তবে আমরা আবারও কঠোর আন্দোলনে নামবো। আমাদের পাওনা টাকা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।’আরেক শ্রমিক নাঈম খান জানান, ‘আমরা বেতনের জন্য ২১ ও ২২ জুলাই কর্মবিরতি দিয়েছিলাম। পরের দিন, ২৩ জুলাই, গিয়ে দেখি গেটের সামনে হঠাৎ করে বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা খুব বিপদে আছি। আমাদের এখনও হাফ বেতন পাওনা রয়েছে। মালিক জানিয়েছেন, ৩১ সেপ্টেম্বর টাকা দেওয়া হবে, কিন্তু তার মা অসুস্থ থাকায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। তারা আমাদের ৩১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যেতে বলেছে। যদি ওই দিনও টাকা না দেওয়া হয়, আমরা কঠোর আন্দোলনে নামব।’স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, ‘আমরা শুনেছি কারখানার মালিক প্রচুর ঋণগ্রস্ত। এমনকি বলা হচ্ছে, তার অবস্থা এত খারাপ যে খালি পায়ে হাঁটারও সামর্থ্য নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন।’বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। গেটে দায়িত্বে থাকা আব্দুল সালাম বলেন, ‘আপনি কে পরিচয় দিন, আইডি কার্ড দেখান। কারখানা কেন বন্ধ হয়েছে, আমি সঠিক কিছু জানি না। শুধু জানি, গ্রুপ পরিবর্তন হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো তথ্য আমার কাছে নেই, কারো ফোন নম্বরও দিতে পারব না।’শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে এভাবে কারখানা বন্ধ করা অন্যায়।’ এ ঘটনায় তারা শ্রম অধিদপ্তর ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
