আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য হেনা বুলবুলির ঘর থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ৬৪ বস্তা সার জব্দ করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেনা বুলবুলি গত তিন বছর ধরে অবৈধভাবে সার মজুদ করে আসছেন। তার স্বামী মজনু চৌকিদার ও ছেলে হাসান চৌকিদার এ সারের বস্তা অতিরিক্ত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার তিনি আমতলী থেকে প্রায় আড়াইশ বস্তা ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার ক্রয় করে বাড়িতে মজুদ করেন। এর মধ্যে গত তিন দিনে ৮৬ বস্তা সার বিক্রি করা হয়েছে।রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নারী ইউপি সদস্যের ঘর থেকে ৪১ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মজনু চৌকিদার ও তার ছেলে হাসান চৌকিদারের নামে কোনো সার বিক্রির ক্ষুদ্র লাইসেন্স নেই। তারা কৃষি অফিসের অনুমোদিত ডিলার তালিকাভুক্তও নন।জব্দকৃত সার বিষয়ে হাসান চৌকিদার স্বীকার করে বলেন, ‘আমার কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স আছে। তাই কীটনাশকের পাশাপাশি সারও বিক্রি করছি।’তবে ইউপি সদস্য হেনা বুলবুলি দাবি করেন, ‘আমার ছেলে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। সার বিক্রিও করছে।’এ বিষয়ে উপ-সহকারী উদ্ভিদ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ‘জব্দকৃত ৬৪ বস্তা সার থানায় জমা দেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউপি সদস্যের ঘর থেকে সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ মো. রাসেল বলেন, ‘অবৈধভাবে সার মজুদ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের নামে কোনো লাইসেন্স নেই।’উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খাঁন জানান, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে সার বিক্রির সুযোগ নেই।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
