রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের একটিমাত্র ব্রিজের অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে হিরু মোল্লার ঘাট এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের দাবি বহু বছরের হলেও আশ্বাসের বাইরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার মানুষের মধ্যে।গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর চরবাসীর মধ্যে নতুন করে আশা জেগেছিল। কিন্তু ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের আর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এখন হতাশা প্রকাশ করছেন তারা।রতনদিয়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক অংশ (৩, ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) পদ্মার চরে অবস্থিত। এ চরে স্কুল, মাদ্রাসা সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, কয়েকটি হাটবাজার এবং হাজার হাজার পরিবার বসবাস করেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ হিরু মোল্লার ঘাট দিয়ে উপজেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেয়া কিংবা প্রসূতিদের জরুরি চিকিৎসা- সবক্ষেত্রেই চরবাসীকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে বা যানবাহনে নদী পার হওয়া গেলেও বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হয়।স্থানীয় কৃষক হামিদ বিশ্বাস জানান, প্রতিবছরই বর্ষায় প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় ব্রিজ হবে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে আর কোনো খবর পাওয়া যায় না। এবার রড-সিমেন্ট আনা হলেও কাজ শুরু হয়নি। কেন হয়নি, তা আমরা জানি না।শারমিন সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মেয়ে নিয়ে উপজেলা সদরে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছি। কষ্টটা বলে বোঝাতে পারব না। যদি ব্রিজ হতো, চরের মানুষের দুঃখ অনেকটা কমে যেত। তখন অনায়াসেই কোনো যানবাহনে করে আমরা উপজেলা সদরে যেতে পারতাম।’এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া আফরোজ বলেন, ‘হিরু মোল্লার ঘাট এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় কারণে দুই দফায় নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। বর্তমানে বর্ষার কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। শুষ্ক মৌসুমে দ্রুতই কাজ শুরু হবে।’তবে কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, প্রতিশ্রুতির চক্র থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবে কাজ শুরু করতে হবে।চরবাসীদের মতে, একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না বরং শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও বাণিজ্যসহ সামগ্রিক জীবনমানের আমূল পরিবর্তন ঘটবে এই এলাকায়।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
