ময়মনসিংহের গৌরীপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের হতদরিদ্রদের স্বল্পমূল্যে খাদ্য শস্য বিতরণ কর্মসূচীর অধীনে ডিলারদের মাঝে দেয়া সরকারি চালের বস্তায় ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার মো. আবুল হাসিম সরকারের গোডাউনে রক্ষিত সেলাইযুক্ত চালের ১১টি চালের বস্তা ওজন করা হয়। এর মধ্যে ১টি বস্তায় ৪৪ কেজি ৬শ গ্রাম, ২টি বস্তায় ৪৭ কেজি, ২টি বস্তায় ৪৮ কেজি, ২টি বস্তায় ৪৯ কেজি, ৩টি বস্তায় ৫০ কেজি ও ১টি বস্তায় ৫০ কেজি ৪শ গ্রাম চাল পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে ডিলার মো. আবুল হাসিম সরকার জানান, ‘গৌরীপুর শ্যামগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে চাল আনার সময়ে প্রত্যেকটি বস্তায় ৫০ কেজি চাল থাকার কথা। কিন্তু অনেক বস্তায় চাল কম পান। এ বিষয়ে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে, বরং আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কাগজে স্বাক্ষর নেন।’তিনি আরও জানান, ‘৭০৯ জন সুবিধাভোগীর জন্য ২১ হাজার ২৭০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। আমার গোডাউনে গত মাসের ৬ বস্তা চাল রয়েছে। আর এবার নতুন করে ৪শ ২১ বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ বস্তায় প্রায় ৩০০ কেজি চাল কম রয়েছে। আমি সুবিধাভোগীদেরকে এক ছটাকও কম দেইনি।’ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন চাল বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে চাল ওজন করেছি। ৮টি বস্তার মধ্যে ৪টি বস্তায় ওজনে কম রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।’তবে শ্যামগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম জানান, ‘গুদাম থেকে চাল মেপে দেয়া হয়েছে। ডিলার যেসব অভিযোগ দিয়েছেন, তা সত্য নয়। এসব চাল আমদানি করা। অন্যান্য ডিলারদেরও দেয়া হয়েছে। কেউ তো অভিযোগ করে নাই।’এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ‘ইতোপূর্বে এ ধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধান করা হয়েছিলো। আবারও একই ঘটনা হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবো।’
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
