বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং দৈনিক কালবেলার বরিশাল ব্যুরো চীফ আরেফিন তুষার (৪০) আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সদর রোডস্থ দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো (হাবিব ভবন) অফিসে বসে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন।অমৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী সাংবাদিক সমাজসহ বরিশালজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।আরেফিন তুষার দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি পেশার পাশাপাশি সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ক্রীড়া অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। তার লেখনী এবং কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম সবসময় অনুপ্রাণিত হয়েছে। বরিশাল প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।তারা বলেন, আরেফিন তুষার শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তার এই অকাল প্রয়াণ সাংবাদিক সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এদিকে সহকর্মী সাংবাদিকরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, আরেফিন তুষার সবসময় ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মানুষ ছিলেন।তিনি সহকর্মীদের উৎসাহ দিতেন এবং সাংবাদিকতার নৈতিক দিকগুলো মেনে চলতেন। আরেফিন তুষার বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন বাশারের খালাতো ভাই ছিলেন। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাব থেকে বারবার নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি হিজলা উপজেলার আন্দারমানিক ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।আরেফিন তুষারের মৃত্যুতে বরিশাল সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবর শুনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরো হতে থাকেন সহকর্মীরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মীরা। পরে সেখান থেকে তার মরদেহ নগরীর কলেজ এভিনিউ নিজ বাসায় নেওয়া হলে সেখানেও তাকে শেষ বারের মত একবার দেখার জন্য জড়ো হতে থাকে বরিশালের সাংবাদিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলের নেতাকর্মীরা।তার মৃত্যুতে বরিশালের সাংবাদিক সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এর জোহর বাদ নিজ এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে। তবে ইতিমধ্যেই স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে শোকের আবহ নেমে এসেছে।সাংবাদিক আরেফিন তুষার কর্মজীবন২০০৮ সালে দৈনিক আজকের পরিবর্তন এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন আরেফিন তুষার। পরবর্তীতে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন রণাঙ্গণের পত্রিকা বিপ্লবী বাংলাদেশ’র চিফ রিপোর্টার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। সেখান থেকে ২০১৪ সালে দৈনিক বরিশালের ভোরের আলো’র যুগ্ম বার্তা সম্পাদক পদে যোগদান করেন।এছাড়া ২০১৮ সালে দৈনিক দখিনের মুখ-এর বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পান আরেফিন তুষার। তখন থেকে এই পদে কর্মরত রয়েছেন। এ পত্রিকাটিতে দায়িত্ব পালনকালে ২০২০ সালে দৈনিক ঢাকা টাইমস-এর বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক কালবেলা পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।এর বাইরে বরিশালের শীর্ষ পেশাজীবী সংগঠন বরিশাল প্রেসক্লাবের নির্বাচিত ক্রীড়া সম্পাদক এবং বার্তা সম্পাদকদের সংগঠন বরিশাল নিউজ এডিটর্স কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন আরেফিন তুষার।আরেফিন তুষারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বরিশাল প্রেসক্লাব, বরিশাল সাংবাদিক ফোরাম, রিপোর্টার্স ইউনিটি, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বার্তা সম্পাদক ফোরাম, দৈনিক কলমের কণ্ঠ পরিবারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
