আমন ক্ষেতের আইলের পাশে বোতলে কিছুটা কীটনাশক রেখে বাকিটা ধানক্ষেতে স্প্রে করছিলেন এক কৃষক। এ সময় ওই কৃষকের অজান্তে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক পানি ভেবে বোতলের সবটুকু কীটনাশক পান করে। এক পর্যায়ে বিষক্রিয়া শুরু হলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা গ্রামে। কীটনাশক পানে মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম মইনুল ইসলাম (৩৭)। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাদির হোসেনের ছেলে।স্থানীয়রা জানান, মইনুল ইসলাম অনেক দিন আগে থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন। অনেক চিকিৎসা করানোর পরও সুস্থ না হওয়ায় হাটে- বাজারে পথেঘাটে অস্বাভাবিক ভাবে ঘুরে বেড়াত। রবিবার সকালে ওই এলাকার কৃষক প্রদীপ কুমার তাহার ধানের জমিতে মাজরা পোকা দমনের কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। বাকি কীটনাশক জমির পাশে বোতলে রাখা ছিল। এসময় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক হঠাৎ এসে প্রদীপের অগোচরে বোতলের ছিপি খুলে সবটুকু কীটনাশক পান করেন। একপর্যায়ে বিষক্রিয়ায় চিৎকার করতে থাকলে প্রদীপ এবং আশপাশের লোকজন তার কীটনাশক পান করার বিষয়টি বুঝতে পারেন।পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান তারা। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন যু্বক মইনুল। খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত হোসেন সরকার জানান, এঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। মৃত্যু সম্পর্কে পরিবারসহ কারও কোন সন্দেহ না থাকায় পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য মৃতদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
