ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা কয়েক শতাধিক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।হাসপাতাল সূত্র বলছে, সরকারি বিধি মোতাবেক অনুমোদিত চিকিৎসক ২১ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৯ জন। চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফিল্ড স্টাফ ও অন্যান্য পদসহ মোট ১৩৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭৫ জন। ৬০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে রোগীদের অনেক সময় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। প্যাথলজি বিভাগেও জনবল না থাকায় রোগীদের যেতে হচ্ছে বাইরের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, যাদের পরীক্ষার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে, তারা বাইরে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ চলে যাচ্ছেন জেলা শহর ফরিদপুরে।পেটের ব্যথা নিয়ে উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রাম থেকে এসেছিলেন সুফিয়া বেগম (৩৩)। তাকে দেখে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘এখানে সেসব পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই আমি বাধ্য হয়ে ফরিদপুরে যাচ্ছি।’উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের জাকির হোসেন (৫৩) পায়ের আঘাতজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক এক্স-রে করাতে বলেছেন। হাসপাতালে এক্স-রে না থাকায় তিনিও বাইরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চলে যান।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি অনেক দিন থেকেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এক্স-রে পরিচালনার জন্য টেকনিশিয়ান পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। সচল না থাকায় অকেজো হয়ে পড়েছে এক্স-রে যন্ত্র।গোপালপুর ইউনিয়ন থেকে আসা হেনা আক্তার (২৯) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেছি। এরপর ডাক্তার দেখাতে এসে আবারো লাইন দিতে হয়েছে। অসুস্থ মানুষ, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ডাক্তারের সংখ্যা বেশি থাকলে এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না।’চিকিৎসা নিতে আসা জামাল হোসেন (৪২) নামে পৌর এলাকার এক ভ্যানচালক বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। কাজকর্ম রেখে এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেও সিরিয়াল পাচ্ছি না।’হাসপাতালের নার্সিং ইনচার্জ বিরতি বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতালে নার্স থাকার কথা ৩৮ জন। কিন্তু আছে ২৬ জন। তবুও আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব চালিয়ে নিচ্ছি, চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।’এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিয়াজ মুস্তাফি চৌধুরী বলেন, ‘জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনবল সংকট কেটে গেলে আমরা জনগণকে আরও উন্নত মানের সেবা দিতে পারব। তারপরও সেবা দিতে আমরা সব সময় আন্তরিক।’এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
