ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবশেষে উচ্ছেদ করা হলো বৃহত্তর মিরপুর পাইকারী কাঁচাবাজার আড়তের অস্থায়ী স্থাপনা। শনিবার ৩০ (আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।এর আগে, রাজধানীর মিরপুরে বৃহত্তর মিরপুর কাঁচাবাজার আড়ত কেন্দ্রিক জবরদখল ও সুবিধাসমূহকে ঘিরে স্থানীয় একাধিক গ্রুপের মাঝে চরম অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে যে কোন সময় ত্রিমুখী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহানির আশঙ্কায় দিনপাত করছিলেন এলাকাবাসী।জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুরে ওয়াকফ্ এস্টেট প্রশাসিত হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজার শরীফের মালিকানাধীন জমি ও মূল সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত অস্থায়ী পাইকারী কাঁচাবাজার ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোকে অপসারণের দাবি তুলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসন বরাবর।স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা উত্তরের ব্যবসায়ী ও নাগরিকগণ একসময় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাপণ্য কেনাবেচায় সর্ববৃহৎ আড়ৎ হিসেবে রাজধানীর কাওরান বাজারকেই জানতেন। ফলে দেশের দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ৩০/৩৫ জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত কাঁচামাল ভর্তি ট্রাক, পিকআপ রাজধানীতে প্রবেশ করতো। এতে করে সৃষ্ট সেই চিরচেনা ভোগান্তি দূরীকরণসহ রাজধানীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, যানজট নিরসন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও জনদূর্ভোগ নিরসনে রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারী কাঁচাবাজার আড়ৎ নির্মাণ করা হয়েছে মিরপুরে।বৃহত্তর মিরপুর কাঁচাবাজার আড়ৎ মালিক সমিতির একজন ব্যবসায়ী বলেন, আগে আমরাও মিরপুরের মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাত্রিকালীন পাইকারী কাঁচাবাজার আড়ত বসিয়ে কাঁচামাল বেচাকেনা করতাম। সকাল ৯/১০ টা পর্যন্ত সেই বাজারে চলতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কাঁচা-সবজিসহ নিত্যপণ্য কেনাবেচা। ফলে নগরবাসীর চলাচলে সাধারণ নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হতো। বিশেষ করে সকালে প্রচণ্ড যানযটে অফিসগামী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরকে চরম জনদূর্ভোগ পোহাতে হতো।আরো একজন ব্যবসায়ী বলেন, কয়েক বছর হলো পরিকল্পনা মাফিক ৫৫০টি ছোট বড় স্পেস আকারে পাকা শেড, দোকানপাট, পাইকারী কাঁচাবাজার হিসেবে স্থায়ী আড়ত নির্মিত হয়েছে এখানে। এটি বর্তমানে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও পরিকল্পিত পাইকারী কাঁচাবাজার আড়ত হিসেবে গণ্য।এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযোগ ছিলো স্থায়ী দোকানগুলো বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দিলেও সেই বাজার এখনো জমে ওঠেনি। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিত পাকা আড়তের সামনের মূল সড়ক, ফুটপাত ও মাজার শরীফের জমিতে অবৈধভাবে কাঁচাবাজার, দোকানপাট ও আড়ত স্থাপন করে বেচাবিক্রি চালিয়ে আসছিলো। এতে করে জনদূর্ভোগ, নাগরিকসেবা, পরিবেশ, নিরাপত্তা বিঘ্নিতসহ নানাবিধ সমস্যা চরম আকার ধারণ ও সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রশাসনিক তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত আসে। মাজারের জমি পুনরুদ্ধার ও বেদখলমুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব।
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
